নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে দেরি কেন, সামনে কী প্রক্রিয়া The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে দেরি কেন, সামনে কী প্রক্রিয়া

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 26, 2026 ইং
নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে দেরি কেন, সামনে কী প্রক্রিয়া ছবির ক্যাপশন:

কোথায় আটকে আছে নবম পে স্কেল? বাস্তবায়নের আশ্বাস অর্থমন্ত্রীর

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো রয়েছে অনিশ্চয়তা। সরকার জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। ফলে লাখো সরকারি চাকরিজীবীর মধ্যে কবে থেকে নতুন বেতন কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পে স্কেল বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশ চূড়ান্ত করা। মূল বেতন, বিভিন্ন ভাতা, প্রশাসনিক কাঠামো এবং সফটওয়্যার প্রস্তুতিসহ একাধিক বিষয় এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে। এসব কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এটি ধাপে ধাপে বা ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরকার নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এমনভাবে এটি কার্যকর করা হবে, যাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সুবিধা পান এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় একবারে পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা টেকসই থাকবে এবং আর্থিক ভারসাম্যও বজায় রাখা সম্ভব হবে।

সূত্র জানায়, বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত সচিব কমিটি আরও দুই থেকে তিনটি বৈঠক শেষে চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দিতে পারে। এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তাদের বেতন-ভাতার জন্য প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্রাচুইটিসহ এ ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা

অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বর্তমান রাজস্ব আয় ও বাজেট ঘাটতির বাস্তবতায় এই অতিরিক্ত ব্যয় সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মনে করছে, বড় অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি বাজারে অতিরিক্ত অর্থের প্রবাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করবে। পাশাপাশি রাজস্ব আদায় প্রত্যাশিত হারে না বাড়লে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীলতাও বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক অবস্থান থাকলেও, সচিব কমিটির সুপারিশ, মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিষয়গুলোই এখন এর চূড়ান্ত বাস্তবায়নের প্রধান নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালে NEO PAED Zone উদ্বোধন

ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালে NEO PAED Zone উদ্বোধন