পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সীমান্ত উত্তেজনা এবং দীর্ঘদিনের বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দুই দেশকে দ্রুত সশস্ত্র সংঘাত বন্ধ করে রাজনৈতিক আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানায়।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের প্রকাশিত বিবৃতিতে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সীমান্তবর্তী বিমান হামলাকে ‘দুঃখজনক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। মস্কোর মতে, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই ইসলামাবাদ ও কাবুলের উচিত উত্তেজনা কমিয়ে সংলাপের মাধ্যমে পারস্পরিক সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করা।
এর আগে জাতিসংঘ জানায়, পাকিস্তানের ওই বিমান হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী এবং আফগান তালেবান উভয় পক্ষই প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেছে। যদিও কোনো পক্ষই এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের ভেতরে অবস্থানরত কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করছে। ইসলামাবাদের দাবি, এসব গোষ্ঠী আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালায়।
অন্যদিকে আফগান তালেবান এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও জঙ্গিবাদ দেশটির অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং এর জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করা ঠিক নয়। ফলে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য এখনও বহাল রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া মনে করছে, সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে রাজনৈতিক সংলাপ ও কূটনৈতিক যোগাযোগই উত্তেজনা প্রশমনের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে মস্কো।
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলও নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়াই বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন।
কসমিক ডেস্ক