প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে চলা আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এর পর থেকেই ভারতের এই জ্যেষ্ঠ বিজেপি নেতার রাজনৈতিক জীবন ও কর্মজীবন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ওড়িশার প্রবীণ বিজেপি নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৯৩ সালে এবিভিপির ওড়িশা রাজ্য সম্পাদক এবং ১৯৯৫ সালে সংগঠনটির জাতীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৯৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-তে যোগ দেন।
২০০৪ সালে তিনি প্রথমবারের মতো লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছর বিজেপির যুব সংগঠন ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা (বিজেওয়াইএম)-এর জাতীয় সভাপতির দায়িত্বও পান। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি আবেদনপত্র বিষয়ক কমিটি, শক্তি বিষয়ক কমিটি এবং পরে সংসদের শক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। এ সময় সরকারি আশ্বাস বিষয়ক কমিটি এবং টেলিকম লাইসেন্স ও স্পেকট্রাম বরাদ্দ-সংক্রান্ত তদন্তে গঠিত যৌথ সংসদীয় কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের জুনে তিনি আবার লোকসভায় নির্বাচিত হন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালনকালে ধর্মেন্দ্র প্রধান পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস, ইস্পাত এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৯ সালের মে থেকে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী এবং ইস্পাতমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০২১ সালের ৭ জুলাই তিনি প্রথমবারের মতো ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে ২০২৪ সালের ৯ জুন নতুন সরকার গঠনের পর পুনরায় একই দায়িত্ব পান। জনপ্রতিনিধি হিসেবে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ওড়িশা বিধানসভার সর্বোচ্চ আইনপ্রণেতা সম্মান ‘উৎকলমণি গোপবন্ধু প্রতিভা সম্মান’ লাভ করেন।
ব্যক্তিগত জীবন
ধর্মেন্দ্র প্রধান ১৯৬৯ সালের ২৬ জুন ওড়িশার তালচেরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা দেবেন্দ্র প্রধান এবং মা বসন্ত মঞ্জরী প্রধান। তিনি ওড়িশার বাণী বিহার ক্যাম্পাসে অবস্থিত উৎকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৮ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি মৃদুলা ঠাকুর প্রধানকে বিয়ে করেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক