ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের মিনাব শহরের শাহারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলার পর কেটে গেছে কয়েক মাস। তবুও ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের দেহাবশেষ উদ্ধারের কাজ এখনো চলছে। হামলায় নিহতদের স্বজন, শিক্ষক এবং উদ্ধারকর্মীরা প্রতিদিনই ঘটনাস্থলে ফিরে এসে হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের স্মরণ করছেন।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়টি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভাঙা কংক্রিট, ইট-পাথর এবং ধসে পড়া ভবনের মাঝে দাঁড়িয়ে শিক্ষকরা তাদের একসময়ের শ্রেণিকক্ষ, প্রার্থনাকক্ষ এবং অফিস কক্ষ চিনে নিচ্ছেন। প্রথম শ্রেণির শিক্ষিকা আমাইনেহ নাদেমি বলেন, এটি আর একটি স্কুল নয়; এটি এখন মৃত্যু, শোক এবং রক্তাক্ত স্মৃতির প্রতীক।
স্থানীয় প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় মোট ১৫৬ জন নিহত হন, যার মধ্যে ১২০ জনই শিশু। নিহতদের মধ্যে একজন গর্ভবতী নারী ও তার অনাগত সন্তানও ছিলেন। হামলার সময় রমজান মাস উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা প্রার্থনা শেষে শ্রেণিকক্ষে ফিরছিল। ঠিক সেই সময় বিস্ফোরণে মুহূর্তেই পুরো ভবন ধসে পড়ে।
উদ্ধারকারীরা জানান, ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মরদেহ ছিন্নভিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রেই পরিবারের সদস্যরা শিশুদের পোশাক, জুতা কিংবা মোজা দেখে পরিচয় শনাক্ত করেছেন। হামলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই উদ্ধার অভিযান শুরু হলেও ধ্বংসস্তূপ, ধোঁয়া এবং আগুনের কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
হামলার দায় নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণে পাশের একটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলায় ভুলবশত স্কুলটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে মিনাবের কবরস্থানে প্রতিদিন নিহত শিশু, শিক্ষক ও অভিভাবকদের স্বজনরা জড়ো হচ্ছেন। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রিয়জনের কবরের পাশে বসে থাকেন। সন্তান হারানো পরিবারগুলোর শোক এখনো কাটেনি। তাদের প্রত্যাশা, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং নিহতদের স্মৃতি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হবে।
কসমিক ডেস্ক