চিলির উত্তরাঞ্চলে টানা ভারি বৃষ্টিতে ভয়াবহ মানবিক ও অবকাঠামোগত বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দেশটির কোকিম্বো ও আতাকামা অঞ্চলে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৭ জন এবং এখনো চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে এক হাজার ১০০টিরও বেশি বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস অথবা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংগ্রহের পাশাপাশি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
গত সপ্তাহ থেকে সাধারণত শুষ্ক হিসেবে পরিচিত কোকিম্বো ও আতাকামা অঞ্চলে অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এসব এলাকায় এত ভারি বৃষ্টি অত্যন্ত বিরল ঘটনা। আকস্মিক এই আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
চিলির জাতীয় জরুরি পরিষেবা সংস্থা সেনাপ্রেড-এর পরিচালক আলিসিয়া সেব্রিয়ান জানিয়েছেন, প্রবল বৃষ্টির কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্ধারকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।
রাষ্ট্রপতি হোসে আন্তোনিও কাস্ট বলেন, পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে সরকার দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা পেয়েছে।
অবিরাম বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কয়েকটি জনপদ কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। কোকিম্বো অঞ্চলে কাদা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বিশুদ্ধ পানীয় জলের সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে, ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
উপ-অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী ম্যাক্সিমো পাভেজ জানিয়েছেন, কিছু এলাকায় মাত্র এক ঘণ্টায় যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা সাধারণত পুরো এক মাসের সমান। তিনি একে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে অস্বাভাবিক আবহাওয়াজনিত দুর্যোগগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন।
জাতীয় আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তা আর্নাল্ডো জুনিগা বলেন, গত দুই দশকে চিলিতে এত ব্যাপক বৃষ্টিপাত দেখা যায়নি। তার মতে, বহু বছর পর দেশটি এমন চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
কসমিক ডেস্ক