রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (মিটফোর্ড) সংলগ্ন এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগ হত্যা মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৯ জুলাই দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, মামলার কয়েকজন আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, কয়েকজন জামিনে আছেন এবং বাকিরা পলাতক। শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করলেও রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে চার্জগঠনের আদেশ দেন। আদালতে উপস্থিত আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা জানান।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই সন্ধ্যায় মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে এলোপাতাড়ি পাথর দিয়ে আঘাত ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
ঘটনার পরদিন নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ২১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে এবং কয়েকজনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে। পরবর্তীতে সম্পূরক চার্জশিটেও একই সংখ্যক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ বহাল রাখা হয়।
নিহত লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিটফোর্ড এলাকার রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দ্রুত বিচার এবং দোষীদের শাস্তির বিষয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক