বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্ব যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে রেফারিং নিয়ে আলোচনা। এমন পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনার ম্যাচে ইংল্যান্ডের কোনো রেফারিকে দায়িত্ব না দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঐতিহাসিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাও এই সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সম্প্রতি আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার শেষ ষোলোর ম্যাচে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরপর আবারও সামনে আসে বিশ্বকাপে ম্যাচ অফিসিয়াল নিয়োগের নীতিমালা।
ফিফার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ম্যাচে এমন রেফারি নিয়োগ দেওয়া হয়, যাদের সঙ্গে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর কোনো সরাসরি স্বার্থসংঘাত নেই। তবে শুধু ভৌগোলিক নিরপেক্ষতাই নয়, অনেক সময় রাজনৈতিক সম্পর্ক, অতীতের সংঘাত এবং কূটনৈতিক সংবেদনশীল বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হয়।
এই নীতির অংশ হিসেবেই আর্জেন্টিনা যদি টুর্নামেন্টে আরও এগিয়ে যায়, তাহলে ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ দুই রেফারি মাইকেল অলিভার ও অ্যান্থনি টেইলর আর্জেন্টিনার কোনো ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না। একইভাবে ইংল্যান্ড ফাইনালে উঠলে আর্জেন্টাইন রেফারিদেরও তাদের ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়া হবে না।
বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে সাতটি ম্যাচ পরিচালনা করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন মাইকেল অলিভার। তবে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলেও সম্ভাব্য শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ফিফার লক্ষ্য, রেফারি নিয়োগ নিয়ে যেন কোনো ধরনের পক্ষপাত বা বিতর্কের সুযোগ সৃষ্টি না হয়।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব। দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ৭৪ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয়েছিল। সেই যুদ্ধ শেষ হলেও দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা পুরোপুরি কাটেনি।
ফিফা মনে করে, এমন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রেফারি নিয়োগে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করলে ম্যাচ পরিচালনার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা কমে। তাই বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে রেফারি নির্বাচনেও বিশেষ নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক