বিশ্বকাপের মঞ্চে দীর্ঘ ১২ বছর পর আবারও মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের স্মৃতি নিয়েই এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামছে দুই দল। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ম্যাচটি শুধু একটি নকআউট লড়াই নয়, বরং অতীতের এক স্মরণীয় দ্বৈরথের নতুন অধ্যায়।
২০১৪ সালের শেষ ষোলোর সেই ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ের ১১৮তম মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত পাস থেকে দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শটে জয়সূচক গোল করেছিলেন আনহেল ডি মারিয়া। সেই একমাত্র গোলেই সুইজারল্যান্ডকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা।
বর্তমান প্রেক্ষাপট অবশ্য অনেকটাই বদলে গেছে। এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামছে লিওনেল স্কালোনির দল। ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি এখনও দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। চলতি বিশ্বকাপে তিনি ইতোমধ্যে ৮টি গোল করেছেন এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসে ২১ গোল নিয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার অবস্থানে রয়েছেন। শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে নিজেদের মানসিক দৃঢ়তারও প্রমাণ দিয়েছে আর্জেন্টিনা।
অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ডও আত্মবিশ্বাস নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। শেষ ষোলোতে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা করে নেয় দলটি। কোচ মুরাত ইয়াকিনের অধীনে সুইসরা এবার ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে। যদিও তিনি আর্জেন্টিনাকে ফেভারিট হিসেবে স্বীকার করেছেন, তবে তাদের অপরাজেয় মনে করছেন না।
এই ম্যাচের আরেকটি বিশেষ দিক হলো, ২০১৪ সালের সেই স্মরণীয় লড়াইয়ের তিনজন ফুটবলার এখনও দুই দলে খেলছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসি এবং সুইজারল্যান্ডের হয়ে অধিনায়ক গ্রানিত জাকা ও ডিফেন্ডার রিকার্ডো রদ্রিগেজ আবারও একে অপরের মুখোমুখি হবেন। জাকা ইতোমধ্যে মেসির প্রশংসা করে বলেছেন, তার যুগে ফুটবল খেলতে পারা সৌভাগ্যের বিষয়। তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, শুধু মেসি নয়, বর্তমান আর্জেন্টিনা দলও বিশ্বের অন্যতম সেরা দল।
কসমিক ডেস্ক