সার্ক পুনরুজ্জীবনে বাংলাদেশ প্রস্তুত, রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর জোর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সার্ক পুনরুজ্জীবনে বাংলাদেশ প্রস্তুত, রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর জোর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 6, 2026 ইং
সার্ক পুনরুজ্জীবনে বাংলাদেশ প্রস্তুত, রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর জোর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ছবির ক্যাপশন:

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে সার্ক (SAARC)-কে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সার্কের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই অচলাবস্থা কাটিয়ে সংস্থাটিকে আবারও কার্যকর প্ল্যাটফর্মে পরিণত করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীতে Bangladesh Institute of International and Strategic Studies আয়োজিত ‘আস্থা পুনর্গঠন, আঞ্চলিক সংহতি নবায়ন: সার্ক পুনরুজ্জীবনের পথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার্ক বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্থাটির শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা সার্কের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ঐকমত্য তৈরির প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন হলেও আশাবাদ হারায়নি। তার ভাষায়, “আমরা আশাবাদী কিন্তু বাস্তববাদী। আমরা মনে করি না যে সার্ক খুব দ্রুত আগের অবস্থানে ফিরে যাবে। তবে এটাও বিশ্বাস করি না যে সহযোগিতার সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে।”

শামা ওবায়েদ বলেন, সার্ক প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে একটি কার্যকর সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। দারিদ্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর চ্যালেঞ্জ আজও প্রায় একই রকম রয়েছে। তাই সার্কের প্রয়োজনীয়তা এখনো আগের মতোই বিদ্যমান, বরং বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, গত চার দশকে সার্ককে যদি সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজেদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করত এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক অঙ্গীকার বজায় রাখত, তাহলে দক্ষিণ এশিয়া আজ আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারত। কিন্তু বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিরোধ এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে বহু সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়নি।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, সার্ক রাজনৈতিকভাবে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে থাকলেও এর প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি এখনো অটুট রয়েছে। সংস্থার সনদ কার্যকর আছে, সচিবালয়, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন কেন্দ্র এখনো কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে নতুন করে সবকিছু শুরু না করেও বিদ্যমান কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে সার্ককে পুনরায় সক্রিয় করা সম্ভব।

তিনি বলেন, সার্কের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সংস্থাটির জন্মস্থান হিসেবে বাংলাদেশেরও আত্মসমালোচনার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, শুধু বাংলাদেশের নয়, সার্কভুক্ত সব দেশেরই নিজেদের ভূমিকা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। আঞ্চলিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে পারলে সার্ক আবারও দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়ন ও সংহতির কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে।

সেমিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সাবেক কূটনীতিক, বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী এবং নীতিনির্ধারণ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। আলোচনায় দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার, রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠন এবং সার্কের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগে দেশটি গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং পারস্পরিক আস্থাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দেন বক্তারা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শাহজাহানপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে অটোরিকশা মালিককে কুপিয়ে হত্

শাহজাহানপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে অটোরিকশা মালিককে কুপিয়ে হত্