চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে প্রায় ২৫ বছর পর সামরিক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কমিউনিস্টবিরোধী দেশপ্রেমের শিক্ষা’ পুনরায় চালু করেছে তাইওয়ান। রবিবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেছে, ভবিষ্যৎ সামরিক কর্মকর্তাদের জাতীয় নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এবং সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে আরও সচেতন করে তোলাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে চীনের সামরিক চাপ, গুপ্তচরবৃত্তি এবং গোপনে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় সামরিক একাডেমির স্নাতকদের জন্য এই বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে দেশের নিরাপত্তার জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন হুমকি, একজন সেনা সদস্যের দায়িত্ব এবং জাতীয় প্রতিরক্ষায় তাদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হবে। বিশেষভাবে ‘আমরা কেন যুদ্ধ করি’ এবং ‘কার জন্য যুদ্ধ করি’—এই দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে পাঠদান করা হবে।
স্নায়ুযুদ্ধের সময় তাইওয়ানে চীনের কমিউনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা পরিচালিত হতো। সে সময় সামরিক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কমিউনিস্টবিরোধী দেশপ্রেমের শিক্ষা’ বাধ্যতামূলক ছিল। তবে দুই পক্ষের সম্পর্কের কিছু পরিবর্তনের পর ২০০২ সালে এই কোর্সটি বন্ধ করে এর পরিবর্তে শুধু ‘দেশপ্রেমের শিক্ষা’ চালু করা হয়।
নতুন কর্মসূচিতে চীনবিষয়ক নীতিনির্ধারণী সংস্থা মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, বিচার মন্ত্রণালয় এবং সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান একাডেমিয়া সিনিকার কর্মকর্তারা বক্তব্য দেবেন। তারা চীনের নীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তাইওয়ানের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করবেন। একই সঙ্গে সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে বন্ধু ও প্রতিপক্ষ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এদিকে তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব জোসেফ উ জানিয়েছেন, শুক্রবার পর্যন্ত প্রথম দ্বীপমালাজুড়ে ১১০টিরও বেশি চীনা যুদ্ধজাহাজ ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে দাবি করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই উপস্থিতি চীনের সম্প্রসারণবাদী নীতির ইঙ্গিত বহন করে।
অন্যদিকে, তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলের কাছে চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনীর নতুন টহল শুরু হওয়ার ঘটনায় তাইপে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বেইজিং বরাবরের মতোই তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে, আর তাইওয়ান সেই দাবি পুনরায় প্রত্যাখ্যান করেছে।
কসমিক ডেস্ক