ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোকানুষ্ঠান ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক কূটনৈতিক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধি এই শোকানুষ্ঠানে অংশ নিলেও, বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে অন্তত ১৩টি দেশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এবং প্রেস টিভির বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানায়, পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এবং পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ শেষ মুহূর্তে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে। যদিও পরবর্তীতে এসব দেশের কয়েকটি সরকার কূটনৈতিক মাধ্যমে তেহরানের কাছে তাদের অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে মার্কিন কর্মকর্তারা বিদেশি প্রতিনিধিদের এই অনুষ্ঠানে না যেতে উৎসাহিত করতে কূটনৈতিক প্রচারণা চালিয়েছেন। এর উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণ সীমিত করা।
আরও দাবি করা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি গোপন নির্দেশনার মাধ্যমে এই ধরনের শোকানুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে “অবন্ধুসুলভ আচরণ” হিসেবে বিবেচনা করার কথা জানান। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয় যে, এমন অংশগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়া আফ্রিকায় নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিকরা বিভিন্ন দেশকে সতর্ক করে বলে অভিযোগ করা হয় যে, অংশগ্রহণ করলে উন্নয়ন সহায়তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তবে এসব চাপের মধ্যেও বাংলাদেশ, চীন, রাশিয়া, ভারত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও পাকিস্তানসহ বহু দেশের প্রতিনিধিরা ইরানের এই শোকানুষ্ঠানে অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ঘটনাটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে সম্পর্ক, প্রভাব ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণ সামনে আসছে।
কসমিক ডেস্ক