অস্ট্রেলিয়ার নতুন ভিসা ফি কার্যকর, বাড়ল শিক্ষার্থী ও কর্মী ভিসার খরচ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

অস্ট্রেলিয়ার নতুন ভিসা ফি কার্যকর, বাড়ল শিক্ষার্থী ও কর্মী ভিসার খরচ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 4, 2026 ইং
অস্ট্রেলিয়ার নতুন ভিসা ফি কার্যকর, বাড়ল শিক্ষার্থী ও কর্মী ভিসার খরচ ছবির ক্যাপশন:

নতুন অর্থবছরের শুরুতেই অভিবাসন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে অস্ট্রেলিয়া। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে দেশটির প্রায় সব প্রধান অস্থায়ী ও স্থায়ী ভিসা শ্রেণির আবেদন ফি বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, দক্ষ কর্মী, পারিবারিক অভিবাসনপ্রত্যাশী এবং বিভিন্ন ধরনের ভিসা আবেদনকারীদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত নতুন ফি কাঠামো অনুযায়ী, অধিকাংশ ভিসা ক্যাটাগরিতেই আবেদন ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিছু ভিসার ক্ষেত্রে বৃদ্ধি প্রায় ২৫ শতাংশ হলেও, কয়েকটি প্রশাসনিক ও বিশেষ ভিসা শ্রেণিতে ফি ২০০ শতাংশেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে। ফলে নতুন আবেদনকারীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার খরচ আগের তুলনায় অনেক বেশি হবে।

সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ফি ২ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত পৃথক আবেদন ফি ২ হাজার ৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

অস্থায়ী গ্র্যাজুয়েট ভিসার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এই ভিসার আবেদন ফি ৪ হাজার ৬০০ ডলার থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৭৫০ ডলার হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি বছরের মার্চ মাসেই একই ভিসার ফি ২ হাজার ৩০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৪ হাজার ৬০০ ডলার করা হয়েছিল। ফলে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এ ভিসার আবেদন ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের ক্ষেত্রেও আবেদনকারীদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হবে। নতুন তালিকা অনুযায়ী, পার্টনার ভিসার আবেদন ফি ৯ হাজার ৩৬৫ ডলার থেকে বেড়ে ১১ হাজার ৭১০ ডলার হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষ কর্মীদের জন্য চালু Skills in Demand Visa-এর আবেদন ফি ৩ হাজার ২১০ ডলার থেকে ৪ হাজার ১৫ ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া ওয়ার্কিং হলিডে ভিসার আবেদন ফি ৬৭০ ডলার থেকে ৮৪০ ডলার করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে কয়েকটি প্রশাসনিক ও পুনরাগমনসংক্রান্ত ভিসায়। ব্রিজিং ভিসা বি-এর আবেদন ফি ১৯০ ডলার থেকে বেড়ে ৫৭৫ ডলার হয়েছে, যা প্রায় ২০৩ শতাংশ বৃদ্ধি। একইভাবে রেসিডেন্ট রিটার্ন ভিসার আবেদন ফি ৪৯০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪৭৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রায় ২০১ শতাংশ বৃদ্ধি। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের পরিবারের সদস্যদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ ভিসার আবেদন ফিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভিসা ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম আয়ের সীমাও সংশোধন করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, Temporary Skilled Migration Income Threshold (TSMIT) এবং Core Skills Income Threshold (CSIT) বছরে ৭৯ হাজার ৪২৩ অস্ট্রেলিয়ান ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে Specialist Skills Pathway-এর জন্য ন্যূনতম বার্ষিক আয় ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৭৬ অস্ট্রেলিয়ান ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পর্যালোচনার আবেদন ফি ৩ হাজার ৭২৭ ডলার এবং ফেডারেল কোর্টে আবেদন দাখিলের ফি ৪ হাজার ১৮০ ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। ফলে ভিসা সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়াও আগের তুলনায় আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

নতুন এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতোমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, আবেদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, বিদেশি দক্ষ কর্মী এবং পর্যটকদের কাছে অস্ট্রেলিয়া তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা খাত, পর্যটন শিল্প এবং শ্রমবাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬ বা তার পর জমা দেওয়া সব ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন ফি কার্যকর হবে। তবে এর আগে জমা দেওয়া আবেদনগুলো আগের ফি কাঠামোর আওতায় নিষ্পত্তি করা হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ নিয়ে প্রশ্ন, চূড়ান্তের আগে নতুন কম

ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ নিয়ে প্রশ্ন, চূড়ান্তের আগে নতুন কম