এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬: বাংলা উচ্চারণের নিয়ম সহজভাবে জানুন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬: বাংলা উচ্চারণের নিয়ম সহজভাবে জানুন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 9, 2026 ইং
এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬: বাংলা উচ্চারণের নিয়ম সহজভাবে জানুন ছবির ক্যাপশন: এইচএসসি ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের জন্য বাংলা উচ্চারণের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর প্রস্তুতিতে বাংলা ২য় পত্রের ব্যাকরণ অংশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাংলা উচ্চারণের নিয়ম। সঠিক উচ্চারণ জানলে ভাষা ব্যবহারে শুদ্ধতা আসে এবং পরীক্ষায়ও ভালো ফল করা সহজ হয়। বিশেষ করে ‘এ’ ধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ, আদ্য ‘অ’, মধ্য ‘অ’ ও অন্ত ‘অ’ ধ্বনির নিয়মগুলো প্রায়ই পরীক্ষায় প্রশ্ন হিসেবে আসে। নিচে এই নিয়মগুলো উদাহরণসহ সহজভাবে তুলে ধরা হলো।

‘এ’ ধ্বনির বিবৃত উচ্চারণের নিয়ম

বাংলা ভাষায় অনেক ক্ষেত্রে ‘এ’ ধ্বনি সাধারণভাবে উচ্চারিত না হয়ে একটু বিস্তৃত বা বিবৃতভাবে উচ্চারিত হয়। এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম রয়েছে।

১. দুই অক্ষরবিশিষ্ট সর্বনাম বা অব্যয় পদে ‘এ’ ধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ হয়।
উদাহরণ:
এত (অ্যাত), এখন (অ্যাখন), হেন (হ্যান), কেন (ক্যান)।

২. অনুস্বার ও চন্দ্রবিন্দুর আগে ‘এ’ ধ্বনি বিবৃতভাবে উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ:
চেংড়া (চ্যাংড়া), খেংড়া (খ্যাংড়া), স্যাঁতসেঁতে।

৩. খাঁটি বাংলা শব্দে অনেক সময় ‘এ’ ধ্বনি বিবৃতভাবে উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ:
খেমটা (খ্যামটা), তেলাপোকা (ত্যালাপোকা), দেওর (দ্যাওর)।

৪. সংখ্যাবাচক কিছু শব্দে এবং ‘এক’ যুক্ত শব্দে ‘এ’ ধ্বনি বিবৃত হয়।
উদাহরণ:
এক চোট, এক তলা, এক ঘরে ইত্যাদি।

৫. ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা বা তুচ্ছার্থে ব্যবহৃত রূপে ‘এ’ ধ্বনি বিবৃত হয়।
উদাহরণ:
দেখ (দ্যাখ), দেখো (দ্যাখো), খেল (খ্যাল), খেলো (খ্যালো)।


বাংলা উচ্চারণে আদ্য ‘অ’ ধ্বনির নিয়ম

কোনো শব্দের শুরুতে ‘অ’ ধ্বনি থাকলে অনেক সময় সেটির উচ্চারণ ‘ও’-এর মতো হয়ে যায়। একে আদ্য ‘অ’ ধ্বনির পরিবর্তন বলা হয়।

১. আদ্য ‘অ’-এর পরে ই, ঈ, উ, ঊ থাকলে উচ্চারণ ‘ও’-এর মতো হয়।
উদাহরণ:
অতি (ওতি), করি (কোরি)।

২. আদ্য ‘অ’-এর পরে ‘য’ ফলা থাকলে উচ্চারণ ‘ও’-এর মতো হয়।
উদাহরণ:
গদ্য (গোদ্দো), গণ্য (গোন্নো)।

৩. আদ্য ‘অ’-এর পরে ঋ কারযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে উচ্চারণ ‘ও’-এর মতো হয়।
উদাহরণ:
মসৃণ (মোসৃণ), বক্তৃতা (বোক্তৃতা)।

৪. এক অক্ষর শব্দে প্রথমে ‘অ’ এবং পরে ‘ন’ থাকলে উচ্চারণ ‘ও’-এর মতো হয়।
উদাহরণ:
গণ (গোন), মন (মোন)।

৫. আদ্য ‘অ’-এর পরে ক্ষ, জ্ঞ বা গ্য থাকলে উচ্চারণ ‘ও’-এর মতো হয়।
উদাহরণ:
দক্ষ (দোক্খো), অক্ষ (ওক্খো)।


বাংলা উচ্চারণে মধ্য ‘অ’ ধ্বনির নিয়ম

শব্দের মাঝখানে থাকা ‘অ’ ধ্বনির উচ্চারণ অনেক সময় ‘ও’-এর মতো হয়।

১. তিন বা ততোধিক বর্ণের শব্দে যদি ‘অ’-এর আগে অ, আ, এ বা ও-কার থাকে, তবে মধ্য ‘অ’-এর উচ্চারণ ‘ও’-এর মতো হয়।
উদাহরণ:
মতন (মতোন), পাগল (পাগোল)।

২. সমাসবদ্ধ শব্দে মধ্য ‘অ’ প্রায়ই ‘ও’-এর মতো উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ:
বনবাসী (বোনবাসী), লোকনাথ (লোকনাথ)।

৩. ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ বা ‘য’ ফলা আগে থাকলেও মধ্য ‘অ’-এর উচ্চারণ ‘ও’-এর মতো হতে পারে।
উদাহরণ:
লাবণী (লাবোনী), কাকলি (কাকোলি)।


বাংলা উচ্চারণে অন্ত ‘অ’ ধ্বনির নিয়ম

শব্দের শেষে থাকা ‘অ’ ধ্বনির উচ্চারণও অনেক সময় ‘ও’-এর মতো হয়ে থাকে।

১. বিশেষণ বা বিশেষ্য রূপে ব্যবহৃত পদে অন্ত ‘অ’ অনেক সময় ‘ও’ ধ্বনির মতো উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ:
বড় (বড়ো), ভাল (ভালো)।

২. কিছু দ্বিরুক্ত শব্দে অন্ত ‘অ’ ‘ও’-এর মতো উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ:
কাঁদ কাঁদ (কাঁদো কাঁদো), পড় পড় (পড়ো পড়ো)।

৩. ‘আন/আনো’ প্রত্যয় যুক্ত শব্দে অন্তিম ‘অ’ ‘ও’-এর মতো উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ:
শেখান (শেখানো), পাঠান (পাঠানো)।

৪. ‘তর’ ও ‘তম’ প্রত্যয়যুক্ত বিশেষণে অন্ত ‘অ’ প্রায়ই ‘ও’-এর মতো উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ:
উচ্চতর (উচ্চতরো), অধিকতর (অধিকতরো)।

৫. ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যাবাচক শব্দে অন্ত ‘অ’ ‘ও’-এর মতো উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ:
সতের (সতেরো), তের (তেরো)।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
টকশোতে ভালো কথা বললেও ভোটারদের টাকা দিচ্ছেন অনেকে: নজরুল ইসল

টকশোতে ভালো কথা বললেও ভোটারদের টাকা দিচ্ছেন অনেকে: নজরুল ইসল