বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে ফর্টিস এফসি। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের বাছাইপর্বে কিরগিজস্তানের মুরাস ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতার পরবর্তী ধাপে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের ক্লাবটি। ফর্টিসের এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
মুরাস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচটি ইব্রাহিমের জন্যও ছিল বিশেষ। গতবার কিরগিজস্তানের এই ক্লাবের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশের আবাহনী লিমিটেড। সেই ম্যাচে আবাহনীর হয়ে খেলেছিলেন ইব্রাহিম। এবার অবশ্য একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভিন্ন দলের জার্সিতে মাঠে নেমে নিজের দলকে জয় এনে দিলেন তিনি।
ম্যাচে ইব্রাহিমের করা একমাত্র গোলটিই দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়। তার গোলের সুবাদে মুরাস ইউনাইটেডকে ১-০ ব্যবধানে হারায় ফর্টিস এফসি। গুরুত্বপূর্ণ এই জয়ের মাধ্যমে শুধু বাছাইপর্ব পেরোনো নয়, নিজেদের প্রথম মহাদেশীয় টুর্নামেন্টের ম্যাচেই স্মরণীয় সাফল্য অর্জন করেছে ক্লাবটি।
ফর্টিস এফসির পাশাপাশি দলের কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সারও নিজের ক্যারিয়ারে একটি বিশেষ অর্জন যোগ করেছেন। প্রথমবারের মতো কোনো মহাদেশীয় ক্লাব প্রতিযোগিতায় দল পরিচালনা করতে নেমেই জয় পেয়েছেন তিনি। ফলে খেলোয়াড় ও কোচ—দুজনের জন্যই মুরাস ইউনাইটেডের বিপক্ষে জয়টি হয়ে উঠেছে ঐতিহাসিক।
মুরাসকে হারানোর পর ফর্টিস এফসির সামনে এখন আরও বড় চ্যালেঞ্জ। বাছাইপর্বের বাধা পেরিয়ে বাংলাদেশের ক্লাবটি এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বে খেলবে। সেখানে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে তাদের।
বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলের জন্যও এই জয় গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের কোনো ক্লাবের ভালো ফলাফল দেশের ফুটবলের সামর্থ্য ও সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে আসে। ফর্টিস এফসির মহাদেশীয় অভিষেকেই জয় তাই ক্লাবটির জন্য যেমন গর্বের, তেমনি বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্যও আনন্দের খবর।
মোহাম্মদ ইব্রাহিমের গোল শেষ পর্যন্ত ফর্টিসকে এনে দিয়েছে ১-০ ব্যবধানের জয়। একই সঙ্গে মুরাস ইউনাইটেডের বিপক্ষে আগের হারের স্মৃতিরও যেন ভিন্ন উত্তর দিয়েছে বাংলাদেশি ফুটবল। এখন গ্রুপ পর্বে নিজেদের এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হবে ফর্টিস এফসির বড় লক্ষ্য।
কসমিক ডেস্ক