২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে শিরোপা জিততে না পারলেও অসাধারণ ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ। ভাঙা আঙুল নিয়েই মাঠে নেমে তিনি একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে স্পেনের আক্রমণ ঠেকিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোল ঠেকাতে না পারায় ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন ছিল আক্রমণাত্মক। লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, পেদ্রি, মার্ক কুকুরেয়া ও ফেরান তোরেসের ধারাবাহিক আক্রমণের সামনে প্রায় একাই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মার্তিনেজ। প্রথমার্ধে ইয়ামালের শট এবং মিকেল ওইয়ারসাবালের নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধেও একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন এই গোলরক্ষক।
৬৭তম মিনিটে ইয়ামালের ক্রস থেকে ফেরান তোরেসের হেড, ৭৭তম মিনিটে পেদ্রি ও ইয়ামালের পরপর দুটি শট এবং নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে ইয়ামালের বিপজ্জনক ফ্রি-কিক—সবই অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন মার্তিনেজ। তার দৃঢ়তায় নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকে ম্যাচ।
অতিরিক্ত সময়েও লড়াই চালিয়ে যান তিনি। তবে ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের শট আর থামাতে পারেননি। সেই একমাত্র গোলেই ১৬ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় স্পেন।
এই ম্যাচে মোট ১১টি সেভ করে পুরুষদের বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বাধিক সেভের নতুন রেকর্ড গড়েছেন ৩৩ বছর বয়সী মার্তিনেজ। এর আগে ফাইনালে সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড ছিল ৯টি। শিরোপা না পেলেও নিজের নাম তুলে নিলেন বিশ্বকাপের ইতিহাসের পাতায়।
২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে টাইব্রেকারে অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্স দেখিয়ে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন মার্তিনেজ। এবারও চোট উপেক্ষা করে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দলের জন্য লড়াই করেছেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দলকে ট্রফি এনে দিতে যথেষ্ট ছিল না।
লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ অভিযানও শেষ হলো হতাশায়। শেষ বাঁশি বাজার পর যেখানে স্পেনের ফুটবলাররা উল্লাসে মেতে ওঠেন, সেখানে মেসি, রদ্রিগো দে পল ও সতীর্থদের চোখে ছিল শুধুই আক্ষেপ। আর ১১টি অবিশ্বাস্য সেভের পরও শিরোপা বাঁচাতে না পারায় ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের ট্র্যাজিক হিরো হয়ে থাকলেন এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ।
কসমিক ডেস্ক