রামগড় স্থলবন্দর নির্মাণে নির্বিচারে পাহাড় ধ্বংসের অভিযোগ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রামগড় স্থলবন্দর নির্মাণে নির্বিচারে পাহাড় ধ্বংসের অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 7, 2026 ইং
রামগড় স্থলবন্দর নির্মাণে নির্বিচারে পাহাড় ধ্বংসের অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:
ad728

খাগড়াছড়ির রামগড়ে ভারতের স্বার্থে নির্মিত স্থলবন্দর প্রকল্পের জমি ভরাটে নির্বিচারে পাহাড় কাটা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে পরিবেশ ধ্বংসের এ কর্মকাণ্ড চললেও তা ঠেকাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প এলাকা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের অন্তত তিনটি পাহাড় পুরোপুরি কেটে ফেলা হয়েছে। এসব পাহাড়ের মাটি রাতের আঁধারে ট্রাকে করে এনে রামগড় স্থলবন্দরের বিভিন্ন অংশ ভরাট করা হচ্ছে। বর্তমানে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশ-সংশ্লিষ্টরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

সূত্র জানায়, ভারতের আগ্রহে খাগড়াছড়ি ও ফেনী সীমান্তবর্তী রামগড়ে এই স্থলবন্দর প্রকল্প গ্রহণ করে পতিত আওয়ামী লীগ সরকার। প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও ভারতের তাগিদে গত বছরের ১৪ আগস্ট যাত্রী পারাপারের জন্য বন্দরের কার্যক্রম উদ্বোধনের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সেই উদ্বোধনী কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

গত ১০ জানুয়ারি এ বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশের পর অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন রামগড় স্থলবন্দর পরিদর্শনে যান। তিনি প্রকাশ্যে বলেন, এই বন্দর মূলত ভারতের স্বার্থে নির্মিত হচ্ছে এবং এতে একতরফাভাবে লাভবান হবে ভারত। তিনি প্রকল্পে বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি পুনর্মূল্যায়নের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের কথাও জানান।

সরকার পতনের আগে প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল। বাকি অংশ সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল। তবে বর্তমানে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ফেনী নদীর তীরবর্তী এলাকায় পাহাড় কেটে আনা মাটি দিয়ে ট্রাক টার্মিনালসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বালুর পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি ব্যবহার করায় শতকোটি টাকার এই প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও নির্মাণমান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে অসংখ্য পাহাড় ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মিরসরাইয়ের বারৈয়ারহাট থেকে রামগড় পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কিলোমিটার পাহাড়ি এলাকায় চার লেনের সড়ক নির্মাণ প্রকল্প। এই রুটের মধ্যে সংরক্ষিত বনাঞ্চলও রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে এসব পাহাড় ও রিজার্ভ ফরেস্ট ধ্বংস করেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়।

গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর স্থানীয়রা আশা করেছিলেন, নতুন করে আর পরিবেশ ধ্বংস হবে না। কিন্তু সেই আশাকে ভঙ্গ করে অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে আবারও পাহাড় কাটায় মেতে উঠেছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলে অভিযোগ উঠেছে।

রামগড় পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বলিটিলা মসজিদের সামনে একটি পাহাড়, একই ওয়ার্ডের আরেকটি পাহাড় এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চৌধুরীপাড়া এলাকার একটি পাহাড় পুরোপুরি কেটে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়দের মতে, মাটি ভরাটের পাশাপাশি প্রকল্পের অন্যান্য অংশ নির্মাণেও ছোট-বড় বহু পাহাড় কেটে ফেলা হয়েছে। অনেক জায়গায় পাহাড় খাড়াখাড়িভাবে কাটা হয়েছে, যা যেকোনো সময় ধসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি প্রাণহানির আশঙ্কাও বাড়ছে।

ইতোমধ্যে বন্দর এলাকার বালু ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। এখন দ্রুততার সঙ্গে ইয়ার্ড ও অন্যান্য অবকাঠামোর কাজ শেষ করার জন্য পাহাড়ের মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, পরিবেশ ধ্বংস করে তৈরি এই স্থলবন্দর আদৌ কার স্বার্থ রক্ষা করবে—বাংলাদেশের, নাকি শুধু ভারতের?


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আন্তর্জাতিক আইনের দরকার নেই, নিজের নীতিতেই চলব: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক আইনের দরকার নেই, নিজের নীতিতেই চলব: ট্রাম্প