পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন উত্তীর্ণ হয়েছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ১১ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালেও বিদ্যালয়টির ফলাফল ছিল হতাশাজনক। ওই বছর ৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন পাস করেছিল। ফলে টানা দুই বছর ধরে ফলাফলে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের নথিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অর্ধশতাধিক থাকলেও নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকে মাত্র পাঁচ থেকে ছয়জন। পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও পাঠদানের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আনা এবং পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলার দায়িত্ব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও।
জানা গেছে, সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের এই বিদ্যালয়টি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক, একজন অফিস সহকারী এবং একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ মোট ১৩ জন কর্মরত রয়েছেন। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের প্রতি মাসে তিন লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পর্ষিয়া রানী হালদার ফলাফলের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চলতি বছর ১১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন এবং গত বছর ৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন পাস করেছে। তবে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর নাম ও ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।
খারাপ ফলাফলের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আনা যাচ্ছে না এবং তারা ঠিকমতো পড়াশোনা না করায় এমন ফল হয়েছে।
টানা দুই বছরের এমন ফলাফলের পর বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম, পাঠদানের মান এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং একাডেমিক পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
কসমিক ডেস্ক