রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১১ নম্বর সেক্টরের একটি সাততলা আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আগুনের ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এবং দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান স্বামী-স্ত্রী, তাঁদের আড়াই বছরের শিশু সন্তানসহ মোট ছয়জন। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের ৩৪ নম্বর ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার সময় ভবনের ভেতরে থাকা অনেক বাসিন্দা আটকা পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে।
তবে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্র নিয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের মধ্যে এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত রয়েছে। কেউ বলছেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আবার কেউ দাবি করছেন, গ্যাস রাইজার কিংবা ভবন মালিকের কক্ষের আইপিএস বিস্ফোরণ থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সিআইডি, পিবিআই, এসবি ও এনএসআইসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা আগুনের কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আগুনের উৎস সম্পর্কে কোনো সংস্থাই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আগুন লাগার পর অনেকেই বাঁচার আশায় ভবনের ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ছাদে তালা দেওয়া থাকায় কেউ ওপরে উঠতে পারেননি। এতে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে তাদের দাবি। তারা ভবন মালিকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
সরেজমিনে দেখা যায়, নিহতদের খোঁজখবর নিতে এবং জানাজায় অংশ নিতে ঘটনাস্থলে যান ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপির মনোনীত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব হাজী মোস্তফা জামান।
এ সময় এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। ফায়ার এক্সিট, ভবনের নকশা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে কোনো ভবনে বসবাসের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। তিনি ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহের দাবিও জানান।
নিহতরা হলেন—
ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), তাঁর স্ত্রী আফরোজা আক্তার, তাঁদের আড়াই বছরের সন্তান মো. রিশান, মো. হারিছ (৫২), মো. রাহাব (১৭) এবং কিশোরী রোদেলা আক্তার (১৪)। নিহতদের মধ্যে কেউ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, কেউ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কেউ ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও লুবানা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, নিহতদের সবার সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
কসমিক ডেস্ক