জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠনের এক বছরও পূর্ণ হয়নি। দলটির বহু নেতা-কর্মীর শিক্ষাজীবন শেষ হয়েছে মাত্র এক থেকে দেড় বছর আগে। অনেকেই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, এনসিপির একাধিক শীর্ষ প্রার্থী অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন।
আইন অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীদের ১০ ধরনের তথ্য হলফনামায় জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এসব তথ্য অনুযায়ী, হলফনামায় মিথ্যা তথ্য প্রমাণিত হলে নির্বাচনের পরও সংসদ সদস্যপদ বাতিল হতে পারে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নিজেকে ‘পরামর্শক’ পরিচয়ে উপস্থাপন করে ৩২ লাখ টাকার বেশি সম্পদের বিবরণ দিয়েছেন। তার কোনো স্থাবর সম্পদ নেই, তবে ব্যাংকঋণ রয়েছে ৩ লাখ টাকা। বছরে আয় দেখিয়েছেন ১৬ লাখ টাকা। নাহিদের নিজের অলংকারের মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর গয়নার মূল্য ১০ লাখ টাকা।
দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হলফনামা অনুযায়ী তার মোট অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২৭ লাখ টাকা, স্ত্রীর ১৬ লাখ টাকা। পেশায় তিনি শিক্ষানবিশ আইনজীবী। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে মাত্র ১৮ শতাংশ কৃষিজমি, যার বর্তমান মূল্য ২৩ হাজার টাকা।
নোয়াখালী-৬ আসনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসুদের হলফনামা বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার হাতে নগদ রয়েছে ৩৫ লাখ টাকা, যা তার বাবার ঘোষিত সম্পদের তুলনায় প্রায় ১৮ গুণ বেশি। অথচ তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে মাত্র ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ব্যাংকে জমা রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৫৫ টাকা।
ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হাতে নগদ রয়েছে ২৫ লাখ টাকা। তার ও স্ত্রীর যৌথ স্বর্ণালংকারের মূল্য ২২ লাখ টাকা। তবে ব্যাংকে তার নিজের নামে জমা আছে মাত্র ৮ হাজার টাকার কিছু বেশি।
পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলম মোট ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকার সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। তার বার্ষিক আয় ৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার সম্পদের মালিক।
ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাবেক এনসিপি নেত্রী তাসনিম জারার ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ১৯ লাখ টাকা। তার কোনো স্থাবর সম্পদ বা মামলা নেই।
সিলেট অঞ্চলের প্রার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ উচ্চ শিক্ষিত ও প্রবাসী আয়ের উৎসসম্পন্ন। বিশেষ করে সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী মো. রাশেল উল আলম হলফনামায় দুই কোটির বেশি টাকার স্থাবর সম্পদের হিসাব দিয়েছেন।
সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, নবীন রাজনৈতিক দল হলেও এনসিপির বহু প্রার্থীর আর্থিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী, যা ভোটারদের মধ্যে নতুন প্রশ্ন ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক