দেশের চলমান গ্যাস সংকট কমাতে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক ২ হাজার ৪৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন যাতে নিরবচ্ছিন্ন রাখা যায় এবং দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকে, সে লক্ষ্যেই জাতীয় গ্রিডে বেশি পরিমাণে গ্যাস দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বর্তমান মোট সরবরাহের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে আসছে ১ হাজার ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। অন্যদিকে পুনঃগ্যাসীকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে আরও ৮২৮ মিলিয়ন ঘনফুট।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে শেভরন দৈনিক ৮৭০ মিলিয়ন ঘনফুট, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) ৪৭৭ মিলিয়ন ঘনফুট, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল) ১৩৯ মিলিয়ন ঘনফুট, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) ৯৬ মিলিয়ন ঘনফুট এবং টাল্লো ৩৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে।
সম্প্রতি কারিগরি ত্রুটি ও আবহাওয়াজনিত সমস্যার কারণে এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এক্সিলারেট এনার্জি ও সামিট গ্রুপ পরিচালিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা FSRU পুনরায় চালু হওয়ায় আমদানি করা এলএনজির সরবরাহ আবারও বেড়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) জাতীয় গ্যাস গ্রিডে আমদানি করা এলএনজি থেকে দৈনিক সরবরাহ ৮২৮ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দুটি ভাসমান টার্মিনাল পুনরায় চালু হওয়ার কারণেই এই সরবরাহ বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জানান, এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউকে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা করতে হলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেটি বন্ধ রেখে প্রয়োজনীয় কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। ফলে টার্মিনাল পরিচালনা ও গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে কারিগরি বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর এই উদ্যোগ দেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের ওপর চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি এখনো রয়েছে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন, আমদানি করা এলএনজি এবং ভাসমান টার্মিনালের সক্ষমতা—সবগুলো বিষয় সমন্বয় করে সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখাই সংশ্লিষ্টদের অন্যতম লক্ষ্য।
কসমিক ডেস্ক