শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রেক্ষাপটে সরকারের দায়িত্ব ও জবাবদিহির প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
শুক্রবার ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র, যেখানে নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষার পূর্ণ দায়িত্ব সরকারের ওপর ন্যস্ত। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ হাদির মৃত্যুতে যখন দেশ শোকাহত, তখন বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর হামলার ঘটনা গভীরভাবে উদ্বেগজনক এবং নিন্দনীয়।
তিনি আরও বলেন, সংকটময় পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে যারা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তারা দেশের শত্রু। এই ধরনের সহিংসতা জাতির জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না। এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সরকারকে এসব ঘটনার পূর্ণ দায় নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ের মব সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের ঘটনাপ্রবাহ সমাজে বিভাজন তৈরি করছে। তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন হবে এবং জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে—এই প্রত্যাশা দেশবাসীর।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা। এজন্য সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।
প্রসঙ্গত, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শরিফ ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে গণসংযোগকালে গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে ঢাকায় এবং পরে বিদেশে চিকিৎসা চলাকালে বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক