ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নির্বাচনি পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে নাশকতার চেষ্টা চালাতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে সীমান্তপথে অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক প্রবেশ ঠেকাতে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির নানা প্রচেষ্টার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে প্রতিবেশী দেশ থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ পাচারের চেষ্টা বাড়তে পারে। এসব অস্ত্র রাজনৈতিক সহিংসতা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। বন্দরগুলো দিয়ে যেন মিথ্যা ঘোষণায় অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক কিংবা নাশকতায় ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া ড্রোন আমদানিতেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সব স্থল, সমুদ্র ও বিমানবন্দরে নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে বেনাপোল, সোনামসজিদ, আখাউড়া ও হিলি স্থলবন্দরে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বাচনোত্তর কয়েক দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী মনে করেন, সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র প্রবেশের চেষ্টা শুধু নির্বাচনি সহিংসতার ঝুঁকিই বাড়ায় না, বরং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তার মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তন বা নির্বাচনকেন্দ্রিক সময়গুলোতে এ ধরনের তৎপরতা অতীতেও দেখা গেছে, যা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, আগের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় লুট হওয়া উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এসব অস্ত্র অবৈধভাবে ব্যবহৃত হলে নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশঙ্কা করছে।
এদিকে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র পাচারের প্রবণতা বেড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে কিছু সংঘবদ্ধ চক্র অস্ত্র আনার চেষ্টা করছে বলে বিজিবি জানিয়েছে। তবে সীমান্তে নজরদারি জোরদার করায় বেশ কয়েকটি চালান আটক করা সম্ভব হয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে অস্ত্র পাচার প্রতিরোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, যেকোনো ধরনের নাশকতার চেষ্টা প্রতিহত করতে তারা প্রস্তুত।
পুলিশ সদর দফতরও জানিয়েছে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু বাহিনীগুলোর তৎপরতাই নয়, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণের সচেতন ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তারা মনে করছেন।
কসমিক ডেস্ক