সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি, অপপ্রচার বা আপত্তিকর পোস্ট করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। বিশেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রণীত ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ অনুসরণ করা সকল সরকারি কর্মচারীর জন্য বাধ্যতামূলক।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন পোস্ট ও মন্তব্য করছেন, যা বিদ্যমান নির্দেশিকার পরিপন্থী। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
ডিপিই আরও জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, সরকারি দপ্তর বা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কটূক্তি, অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বা আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া এবং সেগুলো শেয়ার করাও সরকারি কর্মচারীর আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এছাড়া বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গঠিত মনিটরিং কমিটিগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব কমিটি প্রতি মাসে অন্তত একটি সভা করে শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কার্যক্রম পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষক এসব নিয়ম ভঙ্গ করবেন তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং গৃহীত ব্যবস্থার প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কসমিক ডেস্ক