চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে না পারা ৩১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল খতিয়ে দেখছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছেন। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এমপিও সুবিধা বাতিল হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
২০২৬ সালের পরীক্ষায় শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছর যেখানে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১২টিতে। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে রয়েছে ৫৭টি, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ২২৬টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২৯টি প্রতিষ্ঠান।
বিশেষ করে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৮৬টি, যা এবার বেড়ে ২২৬টিতে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে এসব মাদরাসার প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। লিখিত বক্তব্যসহ নির্ধারিত সময়ে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অঞ্চলভেদে মাদরাসাপ্রধানদের উপস্থিতির জন্য ১৬ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষার শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়েও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শূন্য পাস করা অনেক প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও অত্যন্ত কম। কোথাও এক থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও নিয়মিত পাঠদান না থাকার অভিযোগও রয়েছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে একাধিকবার শূন্য পাসের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে তদন্তের পর শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কোনগুলোকে কী ধরনের শাস্তির আওতায় আনা হবে, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের।
কসমিক ডেস্ক