পোশাক খাতে মন্দা, চাপে সামগ্রিক রপ্তানি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পোশাক খাতে মন্দা, চাপে সামগ্রিক রপ্তানি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 4, 2026 ইং
পোশাক খাতে মন্দা, চাপে সামগ্রিক রপ্তানি ছবির ক্যাপশন:

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতে টানা সাত মাস ধরে মন্দাভাব বিরাজ করছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে। চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬ এর জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে মোট রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ৩২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে ২৫ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছর একই সময়ে এ আয় ছিল ২৬ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার।

ফেব্রুয়ারি মাসে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়েছে। একক মাস হিসেবে ফেব্রুয়ারিতে তৈরি পোশাক খাতের আয় ১৩ দশমিক ২১ শতাংশ কমে ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার।

মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগস্টে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে কমেছে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং অক্টোবরে কমেছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। নভেম্বরে কমেছে ৫ শতাংশ, ডিসেম্বরে ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং জানুয়ারিতে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতেও নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

খাতভিত্তিক হিসেবে ফেব্রুয়ারিতে ওভেন পোশাক রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং নিট পোশাক রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ। গত অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ১৫৯ কোটি ডলার, যা চলতি অর্থবছরে কমে দাঁড়িয়েছে ১৪১ কোটি ডলারে। একইভাবে নিট পোশাক রপ্তানি গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ছিল ১৬৫ কোটি ডলার, যা এ বছর কমে ১৩৯ কোটি ডলারে নেমেছে।

সাত মাসে নিটওয়্যার রপ্তানি হয়েছে ১৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ কম। অন্যদিকে ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১২ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ কম।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, কয়েক মাস ধরে রপ্তানি আয় কমছে এবং জুন পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। তার মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। পাশাপাশি দেশের ব্যাংকিং খাতের সংকট আমদানি-রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি করছে। ব্যাংকিং সমস্যার কারণে একের পর এক কারখানা বন্ধ হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ায় মোট রপ্তানিতে প্রভাব পড়ছে। অপ্রচলিত বাজারেও আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন ও বন্দর বন্ধ থাকায় কাজের সময় কম পাওয়া গেছে, যা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে—এতে ইতিবাচক প্রত্যাশা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সংঘাত, বিশ্ববাজারে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে। সামনের মাসগুলোতে এ প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা এখন দেখার বিষয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ফ্যামিলি কার্ড নয়, আত্মনির্ভরশীলতা চাই: কুমিল্লায় আসিফ মাহমু

ফ্যামিলি কার্ড নয়, আত্মনির্ভরশীলতা চাই: কুমিল্লায় আসিফ মাহমু