ঋণ পুনঃতফসিলে ডাউন পেমেন্ট অর্ধেকে নামলো, বাড়লো সময় 4 The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ঋণ পুনঃতফসিলে ডাউন পেমেন্ট অর্ধেকে নামলো, বাড়লো সময় 4

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 25, 2026 ইং
ঋণ পুনঃতফসিলে ডাউন পেমেন্ট অর্ধেকে নামলো, বাড়লো সময় 4 ছবির ক্যাপশন:

খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল ও এক্সিট সুবিধা সহজ করতে নতুন নীতিগত সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ডাউন পেমেন্টের হার ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশে নামানো হয়েছে। একই সঙ্গে আবেদন নিষ্পত্তি ও অর্থ পরিশোধের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধান ও নীতি বিভাগ-১ (বিআরপিডি-১) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে। এতে বলা হয়, পূর্বে ঘোষিত সুবিধার মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়। ওই সময়ের মধ্যে প্রায় অর্ধেক আবেদন নিষ্পত্তি হলেও বাকি প্রায় অর্ধেক আবেদন নির্ধারিত ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট পরিশোধ করতে না পারায় অনিষ্পন্ন থেকে যায়।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫ ও ২৬/২০২৫-এর আওতায় ঋণ পুনঃতফসিল বা এক্সিট সুবিধা নিতে হলে সংশ্লিষ্ট অর্থায়নকারী ব্যাংক গ্রাহকের আবেদনের সঙ্গে নির্ধারিত ডাউন পেমেন্টের ৫০ শতাংশ গ্রহণ করতে পারবে। অর্থাৎ মোট ২ শতাংশের পরিবর্তে এখন ১ শতাংশ জমা দিলেই প্রাথমিকভাবে আবেদন কার্যকর করা যাবে।

অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট কার্যকর করার পর ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধের সুযোগ থাকবে। ফলে ঋণগ্রহীতারা তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া, যেসব ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে নীতিগত সহায়তা দেওয়া হলেও যৌক্তিক কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি, সেসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক পূর্বনির্ধারিত সময়সীমার অতিরিক্ত আরও তিন মাস পর্যন্ত সময় বাড়াতে পারবে। এতে আবেদনকারীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আর্থিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, সুদ মওকুফ সংক্রান্ত কোনো আবেদন থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিদ্যমান নীতিমালার আলোকে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্ক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। অর্থাৎ সুদ ছাড়ের বিষয়টি ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক চাপ, ব্যবসায়িক মন্দা এবং নগদ প্রবাহ সংকটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ডাউন পেমেন্ট দিতে পারেনি। ফলে তারা পুনঃতফসিল সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছিল। নতুন এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডাউন পেমেন্ট কমানোর ফলে খেলাপি ঋণগ্রহীতারা দ্রুত নিয়মিত হওয়ার সুযোগ পাবে। এতে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণও ধীরে ধীরে কমতে পারে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছেন—এই সুযোগ যেন অপব্যবহার না হয়, সে জন্য ব্যাংকগুলোকে যথাযথ যাচাই-বাছাই করতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে আর্থিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পুনরুদ্ধার ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের নমনীয় নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে, ডাউন পেমেন্ট অর্ধেকে নামানো এবং সময়সীমা বাড়ানোর ফলে ঋণ পুনঃতফসিল প্রক্রিয়ায় গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই নীতির সুফল বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই দেখার বিষয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নির্বাচনী জয়ে তারেক রহমানকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

নির্বাচনী জয়ে তারেক রহমানকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন