হাসিনা–কামালসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ৯ এপ্রিল The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

হাসিনা–কামালসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ৯ এপ্রিল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 8, 2026 ইং
হাসিনা–কামালসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ৯ এপ্রিল ছবির ক্যাপশন: মিরপুরের জাহাজ বাড়ি হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি নির্ধারণ করেছে ট্রাইব্যুনাল—ফাইল ছবি

রাজধানীর মিরপুরের কল্যাণপুর এলাকার জাহাজ বাড়িতে ২০১৬ সালে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণ হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে গত ২২ জানুয়ারি আসামিদের হাজির করার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সেই বিজ্ঞপ্তিতে ৮ মার্চের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছিল।

তবে নির্ধারিত তারিখে আসামিরা হাজির না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাদের পলাতক হিসেবে বিবেচনা করেছে।

ফলে তাদের পক্ষে রাষ্ট্রের মাধ্যমে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

এর মধ্যে দুইজন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন।

তারা হলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া।

অন্যদিকে পলাতক আসামিরা হলেন তৎকালীন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার শেখ মোহাম্মদ মারুফ হাসান, কৃষ্ণপদ রায় এবং আব্দুল বাতেন।

এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে।

অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েকজন তরুণকে বেআইনিভাবে আটক ও অপহরণ করা হয়।

তাদের মধ্যে ছিলেন মোতালেব ওরফে আব্দুল্লাহ, রায়হান, মতিউর রহমান, জুবায়ের হোসেন, সেজাদ রউফ ওরফে অর্ক, তাজ উল হক ওরফে রাশিক, আবু হাকিম ওরফে নাঈম, আকিফুজ্জামান খান এবং রকিবুল হাসানসহ আরও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি।

তাদের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাজতখানা ও সিটিটিসির গোপন বন্দিশালাসহ বিভিন্ন স্থানে গুম করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

পরবর্তীতে আসামিদের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে তাদের কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বিল্ডিং’ নামে পরিচিত ভবনের পঞ্চম তলায় আটক রাখা হয়।

পরে ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে জঙ্গি আস্তানার নাটক সাজিয়ে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের ফোর্স দিয়ে ভবনটি ঘিরে ফেলা হয়।

এরপর কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সোয়াট টিম অভিযান চালিয়ে ৯ তরুণকে গুলি করে হত্যা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রকিবুল হাসান নামে এক তরুণ গুরুতর আহত হন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযানের পর ঘটনাটিকে জঙ্গি অভিযান হিসেবে উপস্থাপন করতে বিভিন্ন আলামত সাজানো হয়।

অভিযানে ব্যবহৃত গুলি সোয়াট টিমের সদস্যদের নামে বণ্টন করে দেখানো হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের মিথ্যা তালিকা প্রস্তুত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, তৎকালীন আইজিপি শহীদুল হকের পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়ন করা হয়।

ঘটনার পর তিনি বিষয়টি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে অবহিত করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের রাষ্ট্রীয় পদক—বিপিএম ও পিপিএম—দেওয়া হয়, যা এই অপরাধে উৎসাহ ও সমর্থন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

এই ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সীমান্তের তিন শতাধিক শীতার্ত মানুষের মাঝে বিজিবির কম্বল বিতর

সীমান্তের তিন শতাধিক শীতার্ত মানুষের মাঝে বিজিবির কম্বল বিতর