রাজধানীর নির্মাণাধীন ও আংশিক নির্মিত ভবনের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ছয় মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। এ সময়ের মধ্যে ওয়াসা, রাজউক এবং বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থা ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজি এবং বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সম্প্রতি এ আদেশ প্রদান করেন।
রিহ্যাবের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, নির্মাণাধীন বা আংশিক সম্পন্ন ভবন থেকে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে সেখানে বসবাসরত পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিক, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা কর্মহীন হয়ে পড়েন। এসব মানবিক ও বাস্তব দিক বিবেচনায় নিয়ে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়, চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে। এ সময়ের মধ্যে কোনো ধরনের বিদ্যুৎ লাইন, পানির সংযোগ কিংবা অন্যান্য ইউটিলিটি সেবা বন্ধ করা যাবে না।
এ আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট ভবনের মালিক ও ডেভেলপাররা তাৎক্ষণিক বড় ধরনের ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে যে স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রাগত সংকট তৈরি হয়, আদালত তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছেন বলে আদেশে প্রতিফলিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে রাজউক, ডেসকো, ডিপিডিসি ও অন্যান্য বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির সহায়তায় রাজধানীর বিভিন্ন নির্মাণাধীন ও আংশিক সম্পন্ন ভবন থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০টির বেশি বিদ্যুৎ মিটার বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর ফলে বহু নির্মাণ প্রকল্প কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে যায়, শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েন এবং ফ্ল্যাট হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়।
একই সঙ্গে ডেভেলপারদের ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, গ্রাহকদের সঙ্গে চুক্তি রক্ষা এবং নতুন বিনিয়োগ স্থবিরতার মতো সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এসব বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরেই রিহ্যাব আদালতের শরণাপন্ন হয়। রিহ্যাবের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এ অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
কসমিক ডেস্ক