বেগম খালেদা জিয়া: ইতিহাসের পাতায় নয়, জাতির হৃদয়ে লেখা এক নাম The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বেগম খালেদা জিয়া: ইতিহাসের পাতায় নয়, জাতির হৃদয়ে লেখা এক নাম

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 1, 2026 ইং
বেগম খালেদা জিয়া: ইতিহাসের পাতায় নয়, জাতির হৃদয়ে লেখা এক নাম ছবির ক্যাপশন:
ad728

কিছু মানুষ কেবল ইতিহাসের সাক্ষী হন না—তাঁরাই হয়ে ওঠেন ইতিহাসের ভাষা, চেতনা ও আত্মা। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন তেমনই এক বিরল নাম। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় নেত্রী—কিন্তু এর চেয়েও বড় পরিচয়, তিনি ছিলেন আপোষহীন গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রতীক। সময়ের ধুলো তাঁকে ঢেকে দিতে পারবে না, কারণ তাঁর জীবন ও লড়াই এ দেশের রাজনৈতিক আত্মার গভীরে স্থায়ীভাবে প্রোথিত।

বাংলাদেশের সবচেয়ে অস্থির, অন্ধকার ও সংকটপূর্ণ সময়গুলোতে তিনি ছিলেন অবিচল। একের পর এক কারাবাস, রাজনৈতিক নিপীড়ন, শারীরিক অসুস্থতা আর নিরন্তর মানসিক চাপ—সবকিছু সহ্য করেও তিনি মাথা নত করেননি। অন্যায়ের সামনে তিনি কখনো নীরব হননি, আর সুবিধার বিনিময়ে কখনো আদর্শ বিসর্জন দেননি। তাঁর শক্তি ছিল সাহস, আর তাঁর অস্ত্র ছিল নৈতিক দৃঢ়তা।

ব্যক্তিগত শোকের পাহাড় বেয়েও রাষ্ট্রের পথে অবিচল

একজন রাষ্ট্রনায়কের সহধর্মিণী হিসেবে তিনি হারিয়েছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে—একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড, যা যে কোনো মানুষকে ভেঙে চুরমার করে দিতে পারত। কিন্তু সেই শোক তাঁকে স্তব্ধ করেনি। বরং তা তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় ও দৃপ্ত করেছে।

একজন মা হিসেবে তিনি বহন করেছেন সবচেয়ে গভীর ক্ষত—প্রিয় সন্তান আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু। সন্তানের মরদেহ দেশে এনে নিজের মাটিতে দাফন করা হয়। সন্তানের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মায়ের যে অসীম যন্ত্রণা—তা কোনো ভাষায় ধরা যায় না। তবুও এই শোক তাঁকে রাষ্ট্র ও জনগণের দায়িত্ব থেকে সরাতে পারেনি।

অন্যদিকে, বড় ছেলে তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাসিত জীবন যাপন করেছেন—মায়ের সান্নিধ্য আর দেশের মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে। একজন মায়ের জন্য এ ছিল নিঃশব্দ, কিন্তু গভীর বেদনার এক দীর্ঘ অধ্যায়। তবুও বেগম খালেদা জিয়া কখনো ব্যক্তিগত কষ্টকে জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেননি।

দেশের মাটিতেই সংগ্রাম—কারণ গণতন্ত্র পালিয়ে বাঁচে না

অসংখ্য সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বিদেশে নিরাপদ আশ্রয় বেছে নেননি। অসুস্থ শরীর, কারাগারের অন্ধকার, রাজনৈতিক একঘরে অবস্থান—সবকিছুর মধ্যেও তিনি দেশেই থেকেছেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন, গণতন্ত্র নির্বাসনে রক্ষা করা যায় না, আর নেতৃত্ব জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে টিকে থাকতে পারে না।

এই সিদ্ধান্তই তাঁকে কেবল একজন রাজনৈতিক নেত্রী নয়, বরং নৈতিক দৃঢ়তার এক জীবন্ত প্রতীকে পরিণত করেছে—একজন নেতা, যিনি দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে আজীবন আত্মিকভাবে যুক্ত ছিলেন।

এক সন্তানের অশ্রু, এক জাতির নীরব হাহাকার

তাঁর মৃত্যুর পর সবচেয়ে হৃদয়বিদারক মুহূর্তগুলোর একটি—মায়ের কবরে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অশ্রুসিক্ত বিদায়। বছরের পর বছর মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকা এক সন্তান, শেষ সময়ে পাশে থাকতে না পারার যন্ত্রণা বুকে নিয়ে নীরবে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

এই অশ্রু শুধু একজন সন্তানের ব্যক্তিগত শোক নয়। এটি রাজনৈতিক বিভাজনের মূল্য, নির্বাসনের যন্ত্রণা এবং দীর্ঘদিনের জাতীয় সংকটের এক মানবিক প্রতিফলন।

জীবন থেমেছে, ইতিহাস থামেনি

বেগম খালেদা জিয়া আজ আর আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তাঁর ভূমিকার পরিসমাপ্তি ঘটেনি। তিনি থেকে যাবেন— বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে, নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠে, প্রতিবাদের ভাষায়, এবং জাতির সম্মিলিত স্মৃতিতে। তিনি কেবল ইতিহাসের একটি অধ্যায় নন— তিনি ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর অবদান কোনো কবরের গভীরে চাপা পড়ে যাবে না— বরং তা চিরকাল ধারণ করা থাকবে জাতির হৃদয়ে। আজ বাংলাদেশ শোকাহত। কিন্তু এই শোক কেবল অশ্রুর নয়—এটি স্মরণ, মূল্যায়ন এবং তাঁর রেখে যাওয়া গণতান্ত্রিক আদর্শ রক্ষার দায়বদ্ধতার।

দ্য ডেইলি কসমিক পোস্ট গভীর শ্রদ্ধা ও নত মস্তকে স্মরণ করছে— জাতীয় নেত্রী, আপোষহীন রাষ্ট্রনায়ক, এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ—বেগম খালেদা জিয়াকে।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রতিটি দিন চারবার, জানুন এর আসল কারণ

ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রতিটি দিন চারবার, জানুন এর আসল কারণ