মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় আগামী দুই দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বা নতুন কোনো ঘটনা ঘটতে পারে। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, আলোচনা এখনো চলছে তবে কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। তার মতে, এই আলোচনায় ইউরোপসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মেও পরবর্তী ধাপে বৈঠক হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে এবং আগামী দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
একই সাক্ষাৎকারে প্রায় আধ ঘণ্টা পর ট্রাম্প আবারও সাংবাদিকদের ফোন করে বলেন, “আপনার সত্যিই সেখানেই (ইসলামাবাদে) থাকা উচিত, কারণ আগামী দুই দিনের মধ্যে কিছু একটা ঘটতে পারে।” তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি সম্ভাব্য সমঝোতার দিকে বেশি আগ্রহী।
ট্রাম্প পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনিরের প্রশংসাও করেন। তিনি বলেন, আলোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন মুনির, যাকে তিনি পূর্বে তার “প্রিয়” বলে উল্লেখ করেছিলেন।
এদিকে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন “প্রায় শেষের পথে”। ফক্স নিউজকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার মতে সংঘাত দ্রুতই একটি সমাধানের দিকে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা, এবং সেই উদ্দেশ্যেই আলোচনা চলছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক দশকের অবিশ্বাস একদিনে দূর করা সম্ভব নয়, তবে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধান সম্ভব। তার মতে, ইরানি পক্ষ একটি চুক্তির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে।
সূত্র অনুযায়ী, সাম্প্রতিক আলোচনায় হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। গত সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, তবে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য মূলত কূটনৈতিক চাপ ও আলোচনা প্রক্রিয়াকে গতিশীল করার একটি বার্তা। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি কতটা দ্রুত বদলাবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নতুন কূটনৈতিক পর্বের ইঙ্গিত এবং ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ও আগ্রহ তৈরি করেছে।
কসমিক ডেস্ক