মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সংঘাত দ্রুতই একটি সমঝোতার দিকে এগোতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয়, এটি (যুদ্ধ) প্রায় শেষ হয়ে এসেছে, হ্যাঁ।” তিনি আরও বলেন, সংঘাত এখন এমন অবস্থায় আছে যেখানে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। তার ভাষায়, “আমি মনে করি, এটি শেষ হওয়ার একেবারে দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।”
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক চাপের কারণে ইরানকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে এবং যদি আগেই পদক্ষেপ না নেওয়া হতো, তবে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারত।
তিনি বলেন, “যদি তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তাহলে আপনাকে ওখানকার সবাইকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করতে হতো।” ট্রাম্পের মতে, এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র কখনোই গ্রহণযোগ্য মনে করত না।
এছাড়া তিনি দাবি করেন, চলমান সংঘাতে ইরানের অবকাঠামো ও সামরিক সক্ষমতায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যা পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় লাগবে। ট্রাম্প বলেন, এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে ইরানকে পুনরুদ্ধার করতে অন্তত ২০ বছর সময় লাগতে পারে।
তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, এখনো পরিস্থিতি পুরোপুরি শেষ হয়নি। তার ভাষায়, “কাজ এখনো শেষ হয়নি, দেখা যাক কী হয়।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় আসতে আগ্রহী হতে পারে।
ট্রাম্প আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-র তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় নতুন কূটনৈতিক আলোচনার ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে বাস্তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও আন্তর্জাতিক আলোচনার ওপর।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক