শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর উপকণ্ঠে অবস্থিত মাহারা কারাগারে বন্দিদের দাঙ্গার ঘটনায় একজন নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শতাধিক সেনাসদস্য ও বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ) কমান্ডো মোতায়েন করেছে দেশটির সরকার।
রোববার (২ আগস্ট) পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সঞ্জীবা মেদাওয়াত্তে জানান, শনিবার কারাগারের ভেতরে বন্দিদের একাংশ একাধিক ভবনে ভাঙচুর চালালে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। পরে সেনাবাহিনী ও এসটিএফ কমান্ডোদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং বন্দিদের নিজ নিজ সেলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, দাঙ্গার সময় বন্দিরা কারাগারের রান্নাঘর, হাসপাতাল, নবনির্মিত পুনর্বাসন ভবন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এসব স্থাপনার উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মাহারা কারাগারে সহিংসতার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে ২০২০ সালের নভেম্বরে একই কারাগারে সংঘটিত দাঙ্গায় ১১ বন্দি নিহত এবং প্রায় ১২০ জন আহত হয়েছিলেন। এছাড়া সর্বশেষ সহিংসতার প্রায় এক মাস আগে একই অঞ্চলের আরেকটি কারাগারে দাঙ্গায় ১০ জন কারারক্ষী ও ২১ জন বন্দির মৃত্যু হয়।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মাহারা কারাগারের ধারণক্ষমতা প্রায় এক হাজার বন্দির হলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় ৪ হাজার ১০০ জন বন্দি রয়েছেন। অর্থাৎ নির্ধারিত সক্ষমতার প্রায় চার গুণ বন্দি সেখানে অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত বন্দির চাপ শ্রীলঙ্কার কারা ব্যবস্থার অন্যতম বড় সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত মাসে শ্রীলঙ্কা সরকার পরিত্যক্ত সরকারি ভবনগুলোকে অস্থায়ী কারাগারে রূপান্তরের পরিকল্পনার ঘোষণা দেয়। দেশটির কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে শ্রীলঙ্কার মোট বন্দিদের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি বিচারাধীন বা রিমান্ডে থাকা আসামি এবং তাদের অধিকাংশই মাদক-সংক্রান্ত মামলায় আটক রয়েছেন। অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমানো এবং কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক