ইরানের পারমাণবিক উপকরণ নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, বললেন ট্রাম্প The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইরানের পারমাণবিক উপকরণ নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, বললেন ট্রাম্প

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 18, 2026 ইং
ইরানের পারমাণবিক উপকরণ নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, বললেন ট্রাম্প ছবির ক্যাপশন:

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন মোড় নিতে পারে এমন একটি সম্ভাব্য চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতির দিকে এগোচ্ছে এবং খুব শিগগিরই একটি চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য নেই এবং সপ্তাহ শেষে আবারও আলোচনায় বসার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চুক্তি সম্পন্ন হলে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হতে পারে, যা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে—সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় ইরানের পারমাণবিক উপকরণ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ইতোমধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। ফলে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক উত্তেজনা অনেকাংশে কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে দেখে এসেছে।

এদিকে ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও শক্তি প্রয়োগ করা হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

তবে ট্রাম্পের এসব বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবির কোনো ভিত্তি নেই এবং ইরান তার নিজস্ব অবস্থানে অটল রয়েছে।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও অনুমতির ওপর নির্ভর করবে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট, যেখানে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বৈশ্বিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তি একদিকে যেমন আশার আলো দেখাচ্ছে, অন্যদিকে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। এখন দেখার বিষয়, আসন্ন আলোচনায় দুই দেশ কতটা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে এবং এই চুক্তি আদৌ বাস্তবায়িত হয় কিনা।a


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইতালিতে শ্রম শোষণ রোধে কঠোর আইন কার্যকর

ইতালিতে শ্রম শোষণ রোধে কঠোর আইন কার্যকর