যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মতো দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে পাকিস্তান। এর পেছনে রয়েছে দেশটির কৌশলগত অবস্থান, বহুমাত্রিক কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং উভয় পক্ষের আস্থা অর্জনের সক্ষমতা।
প্রথমত, পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের রয়েছে সরাসরি সীমান্ত এবং দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির-কে ‘প্রিয় ভাই’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা দুই দেশের ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দেয়।
এছাড়া, ফিলিস্তিন ইস্যুর কারণে ইসরায়েল-এর সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এই অবস্থান তেহরানের কাছে পাকিস্তানকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও পাকিস্তানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে উন্নত হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর শান্তি উদ্যোগে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ দেশটির কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ইঙ্গিত বহন করে।
এছাড়া, পাকিস্তানের সামরিক ও কূটনৈতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় দেশের সঙ্গে যোগাযোগের একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংযোগ পাকিস্তানকে আলোচনার টেবিলে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
পাকিস্তানের আরেকটি বড় শক্তি হলো উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক। এর ফলে দেশটি একাধিক পক্ষকে একই প্ল্যাটফর্মে এনে সমাধানের পথ খুঁজতে সক্ষম হয়।
সব মিলিয়ে, কৌশলগত ভারসাম্য, বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক প্রভাবের কারণে পাকিস্তান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কাছে একটি গ্রহণযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।a
কসমিক ডেস্ক