দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই নিউইয়র্ক সিটির প্রশাসনে বড় নীতিগত পরিবর্তন আনলেন নতুন মেয়র জোহরান মামদানি। সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের জারি করা একাধিক নির্বাহী আদেশ বাতিল করে তিনি ইসরায়েল ইস্যুতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাতিল হওয়া আদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ইহুদিবিদ্বেষের আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা (আইএইচআরএ) সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং ইসরায়েল বয়কটের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ। এর ফলে ইসরায়েল বয়কটের ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক সিটির প্রশাসনিক বাধা তুলে নেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের দিন বৃহস্পতিবার মামদানি ঘোষণা দেন, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালের পর থেকে সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামস যে নির্বাহী আদেশগুলো জারি করেছিলেন, সেগুলো তিনি বাতিল করছেন। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ওই তারিখের পর স্বাক্ষরিত এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল—এমন সব আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে তার আগের নির্বাহী আদেশগুলো সংশোধন বা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।
বাতিল হওয়া আদেশগুলোর একটি মাত্র এক মাস আগে স্বাক্ষর করেছিলেন এরিক অ্যাডামস। ওই আদেশে ইসরায়েল বয়কট সীমিত করা হয় এবং মেয়র প্রশাসনের অধীনে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ইসরায়েল রাষ্ট্র, ইসরায়েলি নাগরিক বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক চুক্তি জারি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সমালোচকদের মতে, এটি নতুন প্রশাসনের জন্য বিতর্ক তৈরি করার উদ্দেশ্যেই জারি করা হয়েছিল।
মামদানির এই সিদ্ধান্তে ফিলিস্তিনি অধিকারপন্থী সংগঠন ও কর্মীরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল সরকার এই পদক্ষেপের নিন্দা করেছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে মামদানির বিরুদ্ধে ইহুদি-বিদ্বেষকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলে। অন্যদিকে, মামদানি শুক্রবার বলেন, তিনি সাবেক মেয়রের নির্বাহী আদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন এবং এটি তার প্রশাসনের নীতিগত অবস্থানের প্রতিফলন।
দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিটি হলে এসব আদেশ কার্যকর হওয়ায় নিউইয়র্ক সিটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।