দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় জ্বর হলেই দ্রুত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। চিকিৎসকদের মতে, এক থেকে দুই দিনের জ্বর হলেও দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা উচিত। পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলে ঘরে বসে না থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুরা চলতি বছর বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এ কারণে শিশুদের জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও জ্বর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর আহ্বান জানিয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর এনএস-১ পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। একই সময়ে সিএম পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৮ হাজার ৬৭৩ জন। এ সময়ে মারা গেছেন ৫৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নারী ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির আশপাশে ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এসি ও ফ্রিজের নিচে পানি জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. নুরুল ইসলামও এক-দুই দিনের জ্বর হলে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন। বর্ষা মৌসুমে রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে বিবেচনায় দেশের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে অতিরিক্ত শয্যা ও পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালুর প্রস্তুতিও রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক