পেটের আলসারে স্বস্তি দিতে পারে যেসব পানীয় The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পেটের আলসারে স্বস্তি দিতে পারে যেসব পানীয়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 4, 2026 ইং
পেটের আলসারে স্বস্তি দিতে পারে যেসব পানীয় ছবির ক্যাপশন:
ad728

পেটের আলসার বা স্টমাক আলসার একটি পরিচিত কিন্তু কষ্টকর স্বাস্থ্য সমস্যা। এ রোগে পেটের ভেতরের আবরণে ক্ষত সৃষ্টি হয়, যার ফলে বুকজ্বালা, পেটব্যথা, বমি ভাব, গ্যাস ও খাবারে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। আলসারের চিকিৎসায় ওষুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সঠিক খাবার ও পানীয় নির্বাচন সুস্থতার পথে বড় ভূমিকা রাখে। ভুল পানীয় আলসারের ক্ষতি বাড়াতে পারে, আবার কিছু নির্দিষ্ট পানীয় আলসারের উপসর্গ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

বাঁধাকপির রস

বাঁধাকপি একটি পুষ্টিকর সবজি, যাতে ভিটামিন A, ভিটামিন C, ফলেট ও ভিটামিন B6 রয়েছে। বাঁধাকপির রস পেটের অতিরিক্ত অ্যাসিড কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। এতে আলসারের কারণে হওয়া জ্বালা ও ব্যথা প্রশমিত হতে পারে এবং ক্ষত সেরে ওঠার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। বাংলাদেশের মতো দেশে সহজলভ্য হওয়ায় অনেকেই সকালে খালি পেটে অল্প পরিমাণ তাজা বাঁধাকপির রস পান করে উপকার পেয়ে থাকেন।

মধুসহ ভেষজ চা

ভেষজ চা সাধারণত ক্যাফেইনমুক্ত হওয়ায় আলসার রোগীদের জন্য নিরাপদ বলে ধরা হয়।
উপকারী ভেষজ চাগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • ক্যামোমাইল চা, যা পেটের ভেতরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে

  • আদা চা, যা গ্যাস, বমি ভাব ও অস্বস্তি কমাতে সহায়ক

  • ক্যালেন্ডুলা চা, যা ক্ষত সারাতে সহায়তা করতে পারে

এ ধরনের চায়ের সঙ্গে অল্প পরিমাণ খাঁটি মধু ব্যবহার করলে এটি আরও উপকারী হতে পারে। মধু পেটের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

দই ও দইজাত পানীয়

দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক বা ভালো ব্যাকটেরিয়া পেটের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পেটের প্রদাহ কমাতে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের সময় দই বা ঘোল পেটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। টক দই বা ঘোল আলসার রোগীদের জন্য তুলনামূলকভাবে উপকারী পানীয় হতে পারে।

আদা দিয়ে তৈরি পানীয়

আদা বহু বছর ধরে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আদার মধ্যে থাকা জিনজেরল উপাদান প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। হালকা আদা চা বা আদা মিশ্রিত পানীয় আলসারের কারণে হওয়া ব্যথা ও অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে অতিরিক্ত আদা খেলে কিছু মানুষের বুকজ্বালা বা পেটের সমস্যা হতে পারে, তাই পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত।

কেফির

কেফির হলো এক ধরনের ফারমেন্টেড দুধজাত পানীয়, যা দেখতে পাতলা দইয়ের মতো। এতে থাকা প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া পেটের ভেতরের ক্ষতিগ্রস্ত স্তরের জন্য উপকারী হতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কেফির ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

হলুদ চা

হলুদের সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। হালকা হলুদ চা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে এবং পেটের জন্য সহনীয় হতে পারে। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।

আঁশযুক্ত পানীয়

আঁশ বা ফাইবার হজমে সহায়তা করে এবং গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফাঁপা ভাব কমাতে সাহায্য করে। সবুজ স্মুদি, তাজা বেরির রস বা চিয়া বীজের পানীয় আলসার রোগীদের জন্য উপকারী হতে পারে।

যেসব পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত

আলসার থাকলে সাধারণত অ্যালকোহল, ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, অতিরিক্ত চিনি দেওয়া সফট ড্রিংক, টমেটো ও সাইট্রাস ফলের রস এড়িয়ে চলা ভালো।

উপসংহার

পেটের আলসার হলে শুধু ওষুধ নয়, সঠিক পানীয় নির্বাচনও সুস্থতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উপকারী পানীয়গুলো আলসারের ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে দীর্ঘদিন আলসার থাকলে বা সমস্যা বাড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জামালপুরে থানার আগুন, ঝলসে গেল সাংবাদিকের মোটরসাইকেল

জামালপুরে থানার আগুন, ঝলসে গেল সাংবাদিকের মোটরসাইকেল