সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে একজন পরিচিত কোরিওগ্রাফারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মডেল নাজমি জান্নাত। তিনি দাবি করেছেন, একটি ফটোশুটের সময় তার ছোট ভাই—যিনি নিজেও একজন মডেল—যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।
নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে নাজমি জান্নাত লেখেন, সম্প্রতি তার ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান একটি শুটে কাজ করতে যান। শুরুতে সংশ্লিষ্ট কোরিওগ্রাফারের আচরণ ছিল স্বাভাবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ। তবে দু’টি শুটের পর কাজের অজুহাতে তাকে আলাদা একটি চেঞ্জিং রুমে ডাকা হয়। সেখানে সীমা ছাড়ানো মন্তব্য করা হয় এবং শারীরিক স্পর্শের ইঙ্গিত দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন নাজমি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রস্তাবে তার ভাই স্পষ্টভাবে ‘না’ বলেন। এরপরই তাকে জানানো হয়—“তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না”—এবং শুট থেকে বের করে দেওয়া হয়।
পোস্টে নাজমি জান্নাত উল্লেখ করেন, তিনি নিজেও বহু বছর ধরে শোবিজ ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। তিনি লেখেন, ক্যারিয়ারে এগিয়ে না যাওয়ার পেছনে আপস না করার সিদ্ধান্তও একটি বড় কারণ। অনেক সময় একজন নারী হিসেবে তাকে নীরব থাকতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ছোট ভাইয়ের ঘটনার প্রসঙ্গে নাজমি লেখেন, যখন একই অভিজ্ঞতা একজন ছেলের সঙ্গেও ঘটে, তখন বোঝা যায় এটি কোনো ব্যক্তিগত দুর্ভাগ্য নয়, বরং একটি অসুস্থ চর্চা। তিনি প্রশ্ন তোলেন—কবে এই সংস্কৃতি থামবে, কবে ট্যালেন্ট ও দক্ষতা যথেষ্ট হবে, আর কবে ‘না’ বলাকে শাস্তি নয়, শক্তি হিসেবে দেখা হবে।
তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন, এই ইন্ডাস্ট্রিতে সবাই একরকম নন। ভালো মানুষও আছেন বলেই তারা এতটুকু পথ এগোতে পেরেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কোরিওগ্রাফারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগটি সামাজিক মাধ্যমে ওঠায় বিষয়টি নিয়ে শোবিজ অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক