বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ইতিহাস, অভিবাসন এবং ‘আদিবাসী’ পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘আদিবাসী’ (Indigenous) শব্দটির ব্যবহার কেবল সাংস্কৃতিক বা ভাষাগত বিষয় নয়; এটি ইতিহাস, নৃবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের সঙ্গেও সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
লেখকের মতে, ঐতিহাসিক দলিল, প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য এবং নৃতাত্ত্বিক গবেষণার আলোকে বর্তমান বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বাঙালি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘ ঐতিহাসিক উপস্থিতি রয়েছে। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আগমন ও বসতি স্থাপনকে বিভিন্ন সময়ের অভিবাসনের ধারাবাহিকতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
নিবন্ধে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, ঐতিহাসিক রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক গবেষকের বক্তব্য ও ঐতিহাসিক তথ্য উদ্ধৃত করে প্রাচীন বাংলার সভ্যতা, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং অনার্য জনগোষ্ঠীর ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া প্রাচীন বঙ্গের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের বিভিন্ন দিকও আলোচনায় এসেছে।
লেখক আরও দাবি করেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে অভিহিত করার প্রশ্নে ঐতিহাসিক ও নৃবৈজ্ঞানিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরিভাষার প্রয়োগ এবং বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় অবস্থানের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে আলোচনা হওয়া উচিত।
নিবন্ধটি মূলত একটি মতামতভিত্তিক বিশ্লেষণ, যেখানে লেখক ইতিহাস, নৃবিজ্ঞান ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। বিষয়টি নিয়ে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন গবেষক, মানবাধিকার সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ভিন্নমত ও বিতর্কও রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক