যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলাম সাগরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে এই চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ। তিনি জানান, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৫৪৫তম সভায় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষককে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটি সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। সেই প্রতিবেদনের আলোকে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় থাকা আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলাম সাগরের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত বিধি অনুযায়ী, তিনি পেনশনসহ কোনো ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত বছরের ২৬ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আইডি থেকে সাদিকুল ইসলাম সাগরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি সামনে আসার পরদিনই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে আইন বিভাগ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এরপর তদন্ত কার্যক্রম চলাকালে ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৫৩৩তম সভায় অভিযুক্ত শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সময়ে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আইন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় কক্ষে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। প্রশাসনের মতে, ক্যাম্পাসে নিরাপদ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিকতা ও আস্থার পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।
কসমিক ডেস্ক