যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে—এমন শঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৬ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৮৩.৪২ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দাম ৪৬ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৮১.১২ ডলারে উঠেছে। যদিও এই বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত, তবুও বাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা ঘোষণার পর তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গিয়েছিল। তখন ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ৪ শতাংশের বেশি কমে যায়। তবে নতুন তথ্য ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা আবারও বাজারকে উল্টো দিকে ঠেলে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজার এখনো যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতার পূর্ণ চিত্র সম্পর্কে নিশ্চিত নয়। চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ না হওয়া এবং এর বাস্তব প্রভাব কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটে ঝুঁকি পুরোপুরি কমেনি, যা বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং সামান্য খবরেও বাজারে দ্রুত ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক দিনে রাজনৈতিক অগ্রগতি ও সরবরাহ পরিস্থিতি তেলের দামের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে এই চুক্তির পূর্ণ বিবরণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি, যা বাজারের অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি তেলের দাম সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। তাই সামান্য পরিবর্তনও আন্তর্জাতিক বাজার, পরিবহন ব্যয় এবং ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।
কসমিক ডেস্ক