ঈদুল আজহার ছুটি শেষে রাজধানীসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এই বাড়তি চাপের প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেতু যমুনা সেতুতেও।
সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে মোট ৪১ হাজার ৯০৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এসব যানবাহন থেকে টোল হিসেবে আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৫২ লাখ ৭৫ হাজার ৭০০ টাকা।
শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত সময়ের হিসাব অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গমুখী ১৯ হাজার ৫৫৯টি যানবাহন সেতু অতিক্রম করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল বাবদ আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ ২৮ হাজার ৭০০ টাকা।
অন্যদিকে একই সময়ে ঢাকামুখী ২২ হাজার ৩৪৭টি যানবাহন সেতু পার হয়েছে। এসব যানবাহনের টোল থেকে আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। ফলে দুই দিক মিলিয়ে মোট টোল আদায় দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৫২ লাখ ৭৫ হাজার ৭০০ টাকায়।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, বর্তমানে সেতুর উভয় পাশে ৯টি করে মোট ১৮টি টোল বুথ চালু রয়েছে। এছাড়া মোটরসাইকেল চলাচলের সুবিধার্থে আলাদাভাবে দুই পাশে দুটি করে বিশেষ বুথও পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঈদের সময় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, সড়কে দুর্ঘটনা কিংবা কোনো গাড়ি বিকল হয়ে গেলে অনেক সময় সেতুর দুই প্রান্তে যানজট বা ধীরগতির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
১৯৯৮ সালে চালু হওয়া যমুনা বহুমুখী সেতু দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের মোট ২৩ জেলার যানবাহন নিয়মিত চলাচল করে।
সাধারণ সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১৮ থেকে ২০ হাজার যানবাহন যমুনা সেতু ব্যবহার করে। তবে ঈদ, পূজা কিংবা দীর্ঘ সরকারি ছুটির সময় এই সংখ্যা দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ফলে সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
এবারও ঈদ-পরবর্তী সময়ে ঘরমুখো ও কর্মস্থলমুখী মানুষের যাতায়াতের কারণে যমুনা সেতুতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি যানবাহন চলাচল করছে। সেতু কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা চালু রেখেছে।
কসমিক ডেস্ক