চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের এক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভাং গাছ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (৩ মে) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শহরের কাঁঠালবাগিচা মহল্লার একটি ফাঁকা স্থানে পরিচালিত এই অভিযানে মোট ৫ হাজার ২৬০টি তাজা ভাং গাছ জব্দ করা হয়। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এই অভিযানে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানে উদ্ধার হওয়া গাছগুলোর উচ্চতা আনুমানিক ৪ থেকে ৫ ফুট বলে জানা গেছে। এগুলো একটি উন্মুক্ত জায়গায় ছিল, যেখানে কোনো ধরনের বেড়া বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। ফলে এগুলো পরিকল্পিতভাবে চাষ করা হয়েছিল কিনা, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সেখানে জন্মানো হয়েছিল— তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান বলেন, উদ্ধার হওয়া গাছগুলো কোনো ঘেরা জায়গায় ছিল না, যা বিষয়টিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে। তিনি জানান, এগুলো চাষ করা হচ্ছিল কিনা এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত— তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভাং মূলত গাঁজার মতোই একটি মাদকদ্রব্য, যা অবৈধভাবে উৎপাদন ও ব্যবহার করা হলে তা দেশের প্রচলিত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই এ ধরনের গাছের উপস্থিতি এবং সম্ভাব্য উৎপাদন কার্যক্রমকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
অভিযানটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আজমাইন মাহাতাবের নেতৃত্বে সদর থানা পুলিশের সমন্বয়ে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো এলাকা তল্লাশি করে গাছগুলো জব্দ করা হয় এবং পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আজমাইন মাহাতাব। তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনাকে ঘিরে নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এত বিপুল পরিমাণ ভাং গাছ কোনোভাবে নজর এড়িয়ে সেখানে বেড়ে ওঠা সহজ নয়, ফলে এর পেছনে সংগঠিত কোনো চক্র থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রশাসনের তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন জানায়, মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে নিয়মিত অভিযান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে যেকোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই অভিযানটি প্রমাণ করে যে, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ উৎপাদন বা মজুতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও বাড়ানো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কসমিক ডেস্ক