রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এ ভিপি ও জিএসের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। সাম্প্রতিক সময় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি পোস্টকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২ মে) রাকসু সংশ্লিষ্ট একটি গ্রুপ এবং ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের অবস্থান প্রকাশ্যে আসে।
জিএস সালাউদ্দিন আম্মার অভিযোগ করেন, পরিষদের অধিকাংশ সদস্য একটি নির্দিষ্ট প্যানেল থেকে নির্বাচিত হওয়ায় ভিন্ন প্যানেলের প্রতিনিধিদের মতামত গুরুত্ব পায় না। তিনি আরও দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে ভিপির সংশ্লিষ্টতায় প্রোগ্রাম আয়োজন ও অতিথি নির্বাচন করা হয়।
তিনি সম্প্রতি একটি সেমিনারে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টিও ব্যাখ্যা করেন এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার কথা উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, জিএস তার অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি এবং তার বক্তব্য বিভ্রান্তিকর।
তিনি আরও বলেন, রাকসুর নিয়ম অনুযায়ী সম্পাদকরা বিভিন্ন আয়োজন পরিচালনা করেন এবং সেখানে ভিপি ও জিএসের ভূমিকা নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
ভিপি জাহিদ অভিযোগ করেন, জিএস ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থেকে পরে ভিন্নভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন, যা দায়িত্বশীল আচরণ নয়।
এদিকে রাকসুর সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হোসেন জোহা বলেন, জিএস নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করছেন এবং অন্যদের দোষারোপ করছেন, যা বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, ব্যক্তিগত অবস্থানকে কেন্দ্র করে এমন বক্তব্য ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত রাকসু নির্বাচনে শিবির-সমর্থিত প্যানেল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ২৩টি পদের মধ্যে ২০টিতে জয় পায়।
কসমিক ডেস্ক