৩ কোটি খুচরা ব্যবসা করের আওতায় আনার উদ্যোগ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

৩ কোটি খুচরা ব্যবসা করের আওতায় আনার উদ্যোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 1, 2026 ইং
৩ কোটি খুচরা ব্যবসা করের আওতায় আনার উদ্যোগ ছবির ক্যাপশন: ৩ কোটি খুচরা ব্যবসা করের আওতায় আনার উদ্যোগ

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দেশের কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের প্রায় ৩ কোটি খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে কর নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। দীর্ঘদিন ধরে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে থাকা এই বিশাল খাত থেকে রাজস্ব আদায় বাড়াতে প্রথমবারের মতো খুচরা ব্যবসার জন্য নামমাত্র টার্নওভার ট্যাক্স চালুর প্রস্তাব রাখা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ডিলার ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পণ্য সরবরাহের সময় বিলের ওপর শূন্য দশমিক দুই শতাংশ (০.২%) হারে কর উৎসে কেটে নেবে। অর্থাৎ কোনো খুচরা দোকান ১ হাজার টাকার পণ্য কিনলে তার কাছ থেকে ২ টাকা কর কেটে সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খুচরা ব্যবসায়ীদের আয় ও লেনদেন ধীরে ধীরে কর ব্যবস্থার মধ্যে নথিভুক্ত হবে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, এই নতুন কর ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার জন্য মোবাইল অ্যাপভিত্তিক এ-চালান সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এর ফলে কর সংগ্রহ ও হিসাব সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতি তিন মাস পরপর মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জানতে পারবেন তাদের নামে কত কর জমা হয়েছে। এতে তারা সহজেই বুঝতে পারবেন তাদের আয় করযোগ্য সীমায় পৌঁছেছে কি না।

কর কর্মকর্তারা বলছেন, এই মডেলটি ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত। সেখানে সরবরাহ চেইনের উপরের স্তরে কর সংগ্রহের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ক্ষুদ্র ও অনানুষ্ঠানিক ব্যবসায়ীকে কর নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশেও একই ধরনের কাঠামো অনুসরণ করে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি খুচরা দোকান ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাদের বড় একটি অংশ এখনো কর ব্যবস্থার বাইরে। ফলে জাতীয় অর্থনীতির একটি বড় অংশ কর নথিভুক্তির বাইরে থেকে যাচ্ছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্তত তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ জাতীয় কর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। খুচরা ব্যবসায়ীদের ক্রয় তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত হলে তাদের প্রকৃত আয় সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে বড় করপোরেট সুপারশপ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার মধ্যে কর-অনুবর্তিতার বিদ্যমান বৈষম্যও কিছুটা কমে আসতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, উৎসে কর সংগ্রহের কারণে যদি উৎপাদনকারী বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, তাহলে তাদের পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে। সেই ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে যুক্ত হয়ে ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই নতুন কর ব্যবস্থার বাস্তবায়নে বাজার পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব সতর্কভাবে বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন রয়েছে।

এনবিআর কর্মকর্তারা আশা করছেন, করের হার তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে বড় ধরনের আপত্তি থাকবে না। বরং ধাপে ধাপে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে এনে রাজস্বভিত্তি সম্প্রসারণে এটি একটি কার্যকর পদক্ষেপ হয়ে উঠবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নারী শিক্ষা প্রসারে বড় পদক্ষেপের কথা জানালেন জুবাইদা রহমান

নারী শিক্ষা প্রসারে বড় পদক্ষেপের কথা জানালেন জুবাইদা রহমান