শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নিয়ে তারেক রহমানের ভূমিকা চান রিজভী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নিয়ে তারেক রহমানের ভূমিকা চান রিজভী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 1, 2026 ইং
শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নিয়ে তারেক রহমানের ভূমিকা চান রিজভী ছবির ক্যাপশন:

মহান মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি এবং অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে বহু আগে থেকেই শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের ধারণা প্রতিষ্ঠিত হলেও বাংলাদেশে এখনো একটি জাতীয় মানদণ্ড নির্ধারিত হয়নি।

রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত এই সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলেন, প্রায় ১৩০ বছর আগে অটো ফন বিসমার্ক শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরির ধারণা সামনে এনেছিলেন। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমিক আন্দোলন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই ধারণা বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে এখনো একটি সুসংহত ও জাতীয়ভাবে নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি কাঠামো গড়ে ওঠেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রিজভী আশা প্রকাশ করে বলেন, তারেক রহমান এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। তিনি শ্রমিক পরিবারের সন্তান হিসেবে শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট ও বাস্তবতা ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন।

বক্তব্যে তিনি শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যার দিক তুলে ধরেন। বিশেষ করে শ্রম আদালত ও ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে হাজার হাজার শ্রমিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় শ্রমিকরা একদিকে যেমন ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে তাদের কর্মজীবনও ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন—শ্রমিকরা কি মামলা নিয়ে আদালতে ঘুরবেন, নাকি কারখানায় কাজ করবেন? তার মতে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত বিচার এবং কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।

সমাবেশে তিনি শিল্পখাত, বিশেষ করে পাটশিল্পের পুনরুজ্জীবনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো পুনরায় চালু করার জন্য একটি জাতীয় নীতিমালা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, দেশের সম্পদ কাজে লাগিয়ে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু করা গেলে লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বক্তব্যে অতীত সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেন রিজভী। তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিকল্পিতভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া-এর সময় স্থাপিত কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র পরবর্তীতে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা দেশের শিল্প উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর ছিল বলে তিনি মনে করেন।

এ সময় সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য নেতারাও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তাদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ। তাই তাদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

মে দিবসের এই সমাবেশে শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উঠে আসে একটি জাতীয় ন্যূনতম মজুরি কাঠামো প্রণয়ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি নির্দিষ্ট মজুরি মানদণ্ড থাকলে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হবে এবং শ্রমবাজারে স্থিতিশীলতা আসবে।

সব মিলিয়ে, এই সমাবেশে দেওয়া বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের সক্রিয় উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আমি চুয়েটের শিক্ষার্থী, তাই আবেগ ও দায়বদ্ধতাও বেশি : চুয়েটের

আমি চুয়েটের শিক্ষার্থী, তাই আবেগ ও দায়বদ্ধতাও বেশি : চুয়েটের