ইরাকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে, শোকের ছায়া পরিবারে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইরাকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে, শোকের ছায়া পরিবারে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 29, 2026 ইং
ইরাকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে, শোকের ছায়া পরিবারে ছবির ক্যাপশন:

ইরাকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মোহাম্মদ শ্রাবনের মরদেহ অবশেষে দেশে পৌঁছেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয়জনের নিথর দেহ ফিরে পাওয়ার মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

শুক্রবার (২৯ মে) ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বাংলাদেশ দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে মরদেহটি দেশে পাঠানো হয়। তুরস্কে যাত্রাবিরতির পর এটি ঢাকায় পৌঁছায়।

বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি মরদেহ গ্রহণ করেন এবং নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি শ্রাবনের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়। পরিবহন ও দাফন ব্যয়ের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এছাড়াও সরকারের পক্ষ থেকে অন্যান্য সহায়তার কথাও জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে মরদেহ গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করা হয়।

মোহাম্মদ শ্রাবনের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বাকুলতলা গ্রামে। তার বাবা মোহাম্মদ নলি মিয়া। জীবিকার তাগিদে প্রায় ১০ বছর আগে তিনি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন।

গত ২৭ মে বাগদাদে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনি নিহত হন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তার পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহটি তার বাবা, স্ত্রী ও মেয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রিয়জনের মরদেহ গ্রহণের সময় পরিবারের সদস্যদের কান্না ও আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য উপস্থিত সকলকেই আবেগাপ্লুত করে তোলে।

এ সময় বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানান।

প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে এই ঘটনার পর। বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, জীবিকার তাগিদে বিদেশে যাওয়া অনেক শ্রমিক কতটা ঝুঁকির মধ্যে জীবনযাপন করেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফিরহাদ হাকিম

মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফিরহাদ হাকিম