দেশে তামাকজাত পণ্যের কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব আদায় বাড়াতে নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর অংশ হিসেবে দেশের উৎপাদিত সব ধরনের সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর বা এয়ার কোড সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি)। সংগঠনটি এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, এনবিআরের সাম্প্রতিক প্রাক-বাজেট আলোচনায় তামাক খাতের কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের ডিজিটাল পরিবর্তনের কথা উঠে এসেছে।
আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, নতুন ব্যবস্থায় সিগারেটের প্যাকেটে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে ভোক্তারা সহজেই জানতে পারবেন সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর সরকার কর পেয়েছে কি না। অর্থাৎ, কর পরিশোধের তথ্য এখন সাধারণ মানুষের হাতেই থাকবে।
এছাড়া কর ফাঁকি বা অনিয়ম শনাক্তে সহযোগিতা করলে পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে কর ফাঁকি রোধে জনসাধারণের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
বিএনটিটিপি মনে করে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তামাক কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সরাসরি রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ব্যবস্থায় অংশ নিতে পারবে।
সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে সিগারেট খাতে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও ট্রেসিং সিস্টেম চালুর দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের মতে, এই ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে অবৈধ সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ অনেকাংশে কমে যাবে।
নতুন নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিক কর ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলেও মনে করছে বিএনটিটিপি। এতে সরকারি জনশক্তির উপর চাপ কমবে এবং কর আদায় প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত হবে।
প্রস্তাবিত কিউআর কোড ব্যবস্থায় সিগারেট প্যাকেটে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যুক্ত থাকবে। এর মধ্যে থাকবে—পণ্যের উৎপাদনের তারিখ, শলাকার পরিমাণ, প্যাকেটের মূল্য, উৎপাদনকারী কোম্পানির নাম ও ঠিকানা, ব্যান্ডরোল বা স্ট্যাম্পের সিরিয়াল নম্বর এবং পরিশোধিত করের তথ্য।
এছাড়া ভোক্তারা স্ক্যান করার মাধ্যমে সহজেই জানতে পারবেন কর পরিশোধ হয়েছে কি না, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু হলে তামাক খাতে দীর্ঘদিনের কর ফাঁকির সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। একই সঙ্গে বাজারে নকল ও অবৈধ সিগারেটের প্রবাহও কমবে।
এনবিআর আশা করছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা শুধু সিগারেট নয়, অন্যান্য পণ্যেও সম্প্রসারণ করা হবে, যা দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করবে।
সব মিলিয়ে সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করার এই উদ্যোগকে তামাক নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক