Bangladesh Army-এর উদ্যোগে খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আবারও মানবিক সহায়তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। জেলার Mahalchhari উপজেলায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য আয়োজন করা হয় একটি দিনব্যাপী বিনামূল্যের চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) মহালছড়ি জোনের আওতাধীন কমলছড়ি এলাকার হেডম্যানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। পাহাড়ি অঞ্চলের ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই ক্যাম্পে তিন শতাধিক মানুষকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্ক রোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থার আয়োজন ছিল, যাতে সবাই প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা নিতে পারেন। সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশি, চর্মরোগ, গ্যাস্ট্রিক, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়। পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধও সরবরাহ করা হয়, যা অনেকের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
মহালছড়ি জোনের আরএমও ক্যাপ্টেন বোরহান উদ্দিন বায়েজীদ জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষ যেন সহজে চিকিৎসা সেবা পেতে পারে, সেই লক্ষ্যেই সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে এ ধরনের মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করে আসছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও এই ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, ৫ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের আরএমও ক্যাপ্টেন লাবনী জামান বলেন, অনেক রোগী দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার বাইরে ছিলেন। এই ক্যাম্প তাদের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে, যেখানে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ পাচ্ছেন। এর ফলে স্থানীয়দের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ছিল সন্তুষ্টির ছাপ। একজন বাসিন্দা অনুরা চাকমা বলেন, পাহাড়ি এলাকায় উন্নত চিকিৎসা সুবিধা খুবই সীমিত। তাই এই ধরনের উদ্যোগ তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তিনি জানান, চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ায় তাদের আর্থিক চাপও কমেছে।
স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ শুধু চিকিৎসা সেবাই প্রদান করে না, বরং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে তোলে। দুর্গম এলাকায় যেখানে সরকারি বা বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য নয়, সেখানে সেনাবাহিনীর এই কার্যক্রম মানুষের জন্য এক ধরনের আশার আলো হিসেবে কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি পূরণে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের মাধ্যমে শুধু রোগ নিরাময় নয়, বরং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাও নিশ্চিত করা সম্ভব। এতে দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটবে।
সব মিলিয়ে, খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে সেনাবাহিনীর এই বিনামূল্যের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম প্রমাণ করেছে যে, সঠিক উদ্যোগ এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে দুর্গম এলাকাতেও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এটি শুধু একটি সেবামূলক কর্মসূচি নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি অনন্য উদাহরণ।
কসমিক ডেস্ক