দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় মঙ্গলবার সারাদেশে কোনো লোডশেডিং হয়নি বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যুৎ বিভাগ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত কয়েক দিন দেশে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় ঘাটতি ছিল প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
চাহিদা কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ঘাটতি হ্রাস পায় এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এর ফলে মঙ্গলবার সারাদেশে কোথাও লোডশেডিং করতে হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের মতে, আবহাওয়ার কারণে গরমের তীব্রতা কিছুটা কমে যাওয়ায় শীতল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এতে করে এয়ার কন্ডিশনার ও অন্যান্য উচ্চ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী যন্ত্রের ব্যবহারও কমেছে, যা সামগ্রিক চাহিদা হ্রাসে ভূমিকা রেখেছে।
এর আগে কয়েকদিন ধরে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকায় বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হয়েছিল। বিশেষ করে শহর ও শিল্পাঞ্চলে এর প্রভাব বেশি ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য ফিরে আসায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ এবং উৎপাদন সক্ষমতা ঠিক থাকলে ভবিষ্যতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আবহাওয়া পরিবর্তন বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। গরম কমলে সাধারণত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার কমে যায়, ফলে জাতীয় গ্রিডে চাপ কম পড়ে।
বিদ্যুৎ বিভাগ আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে চাহিদা বৃদ্ধি পেলে তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া আছে। জ্বালানি সরবরাহ এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, সাময়িকভাবে চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক অবস্থায় এসেছে এবং মঙ্গলবার সারাদেশে লোডশেডিং না থাকাকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।